অভিজিৎ বসু
কাল সকাল থেকে রামচন্দ্রের আবির্ভাব হবে এই বঙ্গভূমিতে। একদম ঠিক দেবতার বঙ্গে অবতরণ। আর এই অবতরণ নিয়ে হৈ চৈ হুল্লোড় পড়ে গেছে গোটা বাংলা জুড়ে। সাজ সাজ রব উঠেছে এই প্রভু শ্রী রামচন্দ্রের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে। রামনবমী হলো অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রাণী কৌশল্যা সন্তান রামের জন্মগ্রহণ উদ্যাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত একটি হিন্দু উৎসব। রাম বিষ্ণুর সপ্তম অবতার, ভগবান বিষ্ণুর মানবীয় রূপের প্রাচীনতম অবতার হলেন প্রভু রাম। এই পবিত্র দিন শুক্লপক্ষের নবম দিনে পড়ে, হিন্দু পঞ্জিকার চৈত্র মাসের নবম দিন। আর সেই দিনকে স্মরণ করেই বঙ্গে প্রতিবছর বেড়ে উঠেছে এই জন্মদিন পালনের ঘটা। দিন দিন বাড়ছে এই রাম জন্মদিনের আয়োজন।
জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে তার জোর কদমে প্রস্তুতি। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে রামনবমীর পোস্টার। রাম নবমীর আগের দিন সাত সকালেই কলকাতায় বিধানসভার এলাকায় পতাকা লাগিয়ে দিয়ে আগাম জানান দেওয়া। দিকে দিকে পোস্টারে ফুটে উঠেছে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাম মন্দির এর উজ্জ্বল ছবি। আর তার পাশে রামের একনিষ্ঠ সেবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাসি মুখের ছবি। আসলে বছর ঘুরলেই যে বঙ্গে ভোট উৎসব এর মহড়া শুরু হয়ে যাবে। আর তাই ভোটের আগে যত বেশি করে ধর্মের অনুপ্রবেশ ঘটানো যায় জনগণের মধ্যে।
প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের পাদুকা মাথায় নিয়ে ভাই ভরত রাজ্য শাসন করেছিলেন এক সময় সেই প্রভু শ্রী রামচন্দ্রের ১৪ বছরের বনবাস এর সময়ে। আর বর্তমানে প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের পাদুকাকে সামনে রেখে মিছিল, জয় শ্রী রাম স্লোগানে মুখরিত হবে গোটা রাজ্য। লক্ষ্য একটাই রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা এই বঙ্গে। যে বঙ্গে এখন ন্যায় এর রাজ্য প্রতিষ্ঠা নেই বলেই বারবার বিরোধীরা অভিযোগ জানিয়ে আসছে সেই কতদিন ধরে। সেই বঙ্গেই রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করা। আর তাই বোধহয় যতদিন যাচ্ছে রাজ্য জুড়ে ন্যায় এর শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে রামসেবকরা। উদ্দেশ্য একটাই যে করেই হোক প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা। কারণ প্রভু শ্রীরামচন্দ্র সত্য আর ন্যায়ের প্রতীক।
এতো গেলো ইতিহাস ঘেঁটে জানা কথা। কিন্তু এই রাম জন্মদিনের আয়োজন কেনো? এই রামকে আঁকড়ে ধরে রাস্তায় নেমে পড়া কেনো? বঙ্গভূমির নানা জায়গায় এই রামচন্দ্রের জন্য মিছিল কেনো? সত্যিই কি তাহলে এই পুরোনো দিনের রামচন্দ্র যেমন রাবণ বধ করেছিলেন সত্যকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সীতাকে উদ্ধার করে। তেমনি করেই এই বঙ্গের ভোল বদলে যাবে কী এই মিছিল করে আর রাজ্যে দখল করতে পারলে প্রভু রামকে সামনে রেখে। আর যাকে আটকাতে পুলিশ প্রশাসনের চিন্তার কোনোও শেষ নেই। যেনো সত্যিই যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতির মোকাবিলা করা।
সেই ২০১৬ সাল থেকেই তো এই রাজ্যে একটু একটু করে রাম এর জয়গান হতে শুরু করে জোরকদমে। একরকম ধুন্ধুমার বেঁধে যায় রাম জন্মদিন পালন উপলক্ষে সেই বছর। কি করে যে যুদ্ধরত রাম এর ছবি পূজা হতে শুরু করলো এই বাংলায় সেই নীল নয়না শান্ত স্মিত হাসির রামচন্দ্রকে ভুলে সেটাই আশ্চর্য। কিন্তু আমাদের এই বঙ্গজীবনে কেমন করে যেন সমুদ্র পার করে সেই জলে ভাসে শিলা এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বঙ্গে অনুপ্রবেশ ঘটেছে প্রভু শ্রী রামের। শুধুই রামকে ভোটের আবহে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। যে পণ্য সত্যিই খুব দুর্মূল্য। আর যার জন্য আগামীকাল এই বঙ্গের মাটিতে জয় শ্রী রাম স্লোগানে মুখরিত হবে গোটা রাজ্য। উদ্দেশ্য একটাই রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করা যে কোনো উপায়ে। তাহলেই যে ন্যায় আর সত্যের প্রতিষ্ঠা হবে।
