২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। দেশের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল, ২০২৫) রায় দিয়ে জানায়, ওই বছরের প্রায় সম্পূর্ণ প্যানেল অবৈধভাবে গঠিত হয়েছিল। ফলে চাকরি হারাতে হয় প্রায় ২৫ হাজার ৫৭৩ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীকে।
এই রায়ের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর চ্যালাচামুণ্ডারা। যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি গেল শুধু অযোগ্যদের বাঁচাতে।’
সুকান্তর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি রাজ্য সরকার যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে আলাদা করে আদালতে তথ্য পেশ করত, তাহলে এত সংখ্যক মানুষ চাকরি হারাতেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই পৃথকীকরণ করা হল না? কেন সমস্ত প্রার্থীদের এক ছাঁকিতে ফেলা হল?
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির পেছনে রয়েছে শাসক দলের নেতাদের আর্থিক লেনদেন। লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল অযোগ্য প্রার্থীদের।
সুকান্ত মজুমদার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি চুপ করে বসে থাকবে না। রামনবমী শেষ হলেই আমরা পূর্ণ শক্তিতে রাস্তায় নামব। আন্দোলন করব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সেই কুর্সি থেকে নামিয়ে আনব।
এসএসসি-র রায়ের পর রাজ্যের শিক্ষাজগতে নেমে এসেছে তীব্র অনিশ্চয়তা। হাজার হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। বিজেপির এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর রাজ্য রাজনীতি আরও চাঙ্গা হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
