নকশালবাড়ি—এই নামটি একসময় সারা দেশের মধ্যে এক বিপ্লবী ইতিহাসের প্রতীক ছিল। এক সময়ের আন্দোলনের সূতিকাগার, যেখানে উত্থান হয়েছিল নকশাল আন্দোলনের। এখানকার হাতিঘিষা গ্রামেই ছিল কিংবদন্তি নেতা কানু সান্যালের বাড়ি। সাদামাটা টিনের ছাউনি ঘর, যেখানে তিনি কাটিয়েছেন সরল জীবন। আজ সেই ঘরে গড়ে উঠেছে একটি ছোট্ট সংগ্রহশালা, যা অতীতের আন্দোলনের সাক্ষ্য বহন করে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গিয়েছে নকশালবাড়ির ছবি। ইতিহাসের সেই প্রেক্ষাপটে এখন দেখা যাচ্ছে নতুন এক সংস্কৃতির উত্থান। রামনবমী উৎসবকে কেন্দ্র করে এবারে নকশালবাড়ি যেন রঙে রাঙা। নকশালবাড়ি রামনবমী মহোৎসব সমিতির উদ্যোগে বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন হয়েছে। রথখোলা মোড় থেকে আদিবাসী ময়দান পর্যন্ত মিছিল হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
তাঁদের দাবি, শিলিগুড়ি মহকুমার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় শোভাযাত্রা হতে চলেছে। বিহার, নেপালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে রামভক্তরা আসবেন, সংখ্যাটা ছুঁতে পারে প্রায় ৫০ হাজার। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। থাকবে বিশেষ ট্যাবলো, ধর্মীয় সঙ্গীত এবং প্রসাদের ব্যবস্থা।
উদ্যোক্তা অসীম ঘোষ জানিয়েছেন, “এটা সনাতন ধর্মকে রক্ষার এক প্রয়াস। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।” নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য অজয় ওঁরাও বলেন, “আমরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। প্রশাসনও আমাদের পাশে রয়েছে।”
নকশালবাড়ি আজ এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী। ইতিহাসের গন্ধ আজও বাতাসে, কিন্তু তার সঙ্গে মিশেছে নতুন বিশ্বাস, নতুন সংস্কৃতির ছোঁয়া। পালটে গিয়েছে সময়, পালটে গিয়েছে নকশালবাড়ির পরিচয়—তবু অতীত আজও মেলে ধরে তার ছায়া।
