একসময় বিপুল মানুষ সমর্থন জানিয়েছিলেন তাঁকে। মাত্র কয়েকমাস আগেই মসনদে বসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার বন্ধু ধনকুবের ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে শুরু হয়ে গেল বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এটি তাঁর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।
ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর সরকারি ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহারের অভিযোগসহ নানা ঘটনা তুলে ধরে এই বিক্ষোভ হয়। উঠে এসেছে বাণিজ্য শুল্ক ও নাগরিক স্বাধীনতা হ্রাসের মতো বিষয়গুলো। নিয়ে তথ্য বলছে শনিবার সেদেশের ৫০টি স্টেটে প্রায় ১ হাজার ২০০ বিক্ষোভ–সমাবেশ আয়োজন হয়েছে। ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক, হিউস্টন, ফ্লোরিডা, কলোরাডো ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ হয়েছে।
ওয়াশিংটনে, হাজার হাজার বিক্ষোভকারী যাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে ন্যাশনাল মলে জড়ো হন। যেখানে বহু বক্তা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কথা বলেন। ৬৪ বছর বয়সী বাইক ট্যুর গাইড ডায়ান কোলিফ্রাথ বলেন, “নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে প্রায় ১০০ মানুষ বাস ও ভ্যানে করে এসেছেন এই অবৈধ প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে, যা বিশ্বজুড়ে আমাদের বন্ধুদের হারাচ্ছে এবং দেশের ভেতরেও মানুষের জন্য ধ্বংস ডেকে আনছে। তারা আমাদের সরকারকে গর্তে ফেলছে।”
এই বিক্ষোভের নাম দেওয়া হয়েছে ‘হ্যান্ডস অফ’।এই বিক্ষোভে ১৫০টির মতো গোষ্ঠী অংশ নিয়েছে। বিশাল এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে তাঁরা ট্রাম্প, ইলন মাস্ক, রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ও তাঁদের মিত্রদের পরিষ্কার বার্তা পাঠাতে চান যে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
শনিবারের বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণই ছিল। ওয়াশিংটনের হালকা ঠাণ্ডা দিনে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বয়স্ক থেকে শুরু করে তরুণ দম্পতিরাও ছিলেন। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনের পর এক উইমেন্স মার্চে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ওয়াশিংটনে জড়ো হয়েছিল। সর্বশেষ এই বিক্ষোভের আয়োজকরা ২০,০০০ মানুষের উপস্থিতির পূর্বাভাস দিলেও বিকেলে তা আরও বেশি বলে মনে হয়েছে।
তবে শুধু আমেরিকা নয় এই বিক্ষোভ ইউরোপের কিছু রাজধানীতেও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প ও তাঁর আক্রমণাত্মক বাণিজ্য নীতির বিরোধিতা করেন। বার্লিনে, ৭০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সুজান ফেস্ট জানান, ট্রাম্প “একটি সাংবিধানিক সংকট” তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, “লোকটা একটা উন্মাদ।”
ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের হাতে ধরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘গণতন্ত্র রক্ষা করুন’, ‘হ্যান্ডস অফ’ বা ‘আমাদের নিজের মতো চলতে দাও’, ‘ট্রাম্প তোমার কর্মকান্ডে বিশ্ববাসী বিরক্ত, তুমি চলে যাও’। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্যালেস দে লা রিপাবলিকেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। এদের বেশিরভাগই মার্কিন নাগরিক। ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন ও পর্তুগালের রাজধানী লিসবনসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্প ও মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।
সম্প্রতি সমীক্ষা অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে তাঁর ব্যাপক বাণিজ্য শুল্ক ও অনেক আমেরিকানের বেড়ে চলা ক্ষোভ সত্ত্বেও, হোয়াইট হাউস এই বিক্ষোভগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
Leave a comment
Leave a comment
