পূর্বাচলের জমি নিয়ে বড়সড় ফেঁসে গেলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর কন্যা সায়মা পুতুল। রাজধানীর আশেপাশের এক মূল্যবান আবাসিক প্লট যেন রাতারাতি চলে গেল প্রভাবশালীদের দখলে। অভিযোগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলো দিয়ে এই জমি নিজের নামে লিখিয়ে নেন পুতুল—মায়ের প্রভাব কাজে লাগিয়েই।
শুরুতেই দুর্নীতির গন্ধ পেয়ে নড়েচড়ে বসে দুর্নীতি দমন কমিশন। তদন্তে নামার পর পরই একে একে বেরিয়ে আসে বিস্ময়কর তথ্য। সেই অনুসন্ধানের নথি এখন আদালতের টেবিলে। দুদকের পক্ষ থেকে আইনজীবী মীর আহমেদ সালাম স্পষ্ট করে জানালেন—আগামী ৪ মে’র মধ্যে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এরই মধ্যে দেশের আইনি ব্যবস্থায় দুই অভিযুক্ত, শেখ হাসিনা ও তাঁর কন্যা সায়মা পুতুল, এখন পলাতক। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তদন্তের অগ্রগতিতে বোঝা যাচ্ছে, এই মামলা কেবল জমি দখলের নয়, এর পেছনে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর ভয়ানক চিত্র। মামলা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ, জমির দাবি ব্যক্তিগত বলে দেখালেও, প্রশাসনিক অনুমতি বা নীতিগত প্রক্রিয়ার প্রতি সামান্যও শ্রদ্ধা দেখানো হয়নি। নিয়মকে ছাপিয়ে, প্রভাব খাটিয়ে মায়ের সহায়তায় জমির দখল নেন পুতুল। তিনি এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ পদে আসীন, নয়াদিল্লিতেই রয়েছেন কর্মস্থলে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা গত বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে নীরবে পাড়ি জমান ভারতের দিকে।
বাংলাদেশে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর মেয়ে সায়মা পুতুলের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির নথি এখন তদন্ত সংস্থার টেবিলে। দেশের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় হলেও, ভারত থেকে তাঁদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া আসেনি। নয়াদিল্লিতে উচ্চপদে কর্মরত পুতুল ও রাজনৈতিক মঞ্চ ছেড়ে ভারতে গমন করা হাসিনা—দুজনেই এখন আইন-পরিস্থিতির বাইরে থাকলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি গ্রাস ক্রমশ শক্ত হচ্ছে।
যে জমি নিয়ে এই বিতর্ক, তা যেন শুধু একটি প্লট নয়—বরং বড় মঞ্চ, যেখানে বাস্তবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রভাব, পরিচয় আর রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ। অভিযোগ বলছে, নিয়ম না মেনে, নথি লুকিয়ে এবং প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের নামে জমি দখলের চেষ্টা হয়েছিল।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এমন এক খেলা, যেখানে হাস্যকর ঘটনা বলেই যে সবকিছু ঠাট্টা হয়ে যায় না—সেখানে থাকে গভীর ষড়যন্ত্র, ক্ষমতার ছায়া আর দুর্নীতির সুগন্ধি মোড়কে ঢাকা বাস্তব। নিছক কৌতুক নয়, এ যেন দেশের আইনের মুখে এক কঠিন প্রশ্ন।
