এই পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। ইসলামাবাদ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে তাহাউর রানা বর্তমানে পাকিস্তানের নাগরিক নন। তিনি বহু বছর আগে পাকিস্তানি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে কানাডার পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানি কোনও সরকারি নথিপত্র ব্যবহার করেননি। পাকিস্তান সরকারের তরফে এমন বার্তা আসার পেছনে কূটনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তাহাউর রানার নাম প্রথম সামনে আসে ডেভিড কোলম্যান হেডলির বয়ানের মাধ্যমে। হেডলি, যিনি ইতিমধ্যেই আমেরিকায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, স্বীকার করেন যে রানা তাঁর সঙ্গেই মুম্বই হামলার প্রস্তুতিতে যুক্ত ছিলেন। হেডলি ও রানার মিলে ভারতীয় স্থানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা এবং জায়গাগুলোর রেকি করা, এই সব তথ্যই তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।
ভারত সরকারের পক্ষে এটি একটি বড় কূটনৈতিক জয়। মুম্বই হামলার মতো ঐতিহাসিক সন্ত্রাসবাদী ঘটনায় জড়িত একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা শুধু রাজনৈতিক নয়, ন্যায়বিচারের দিক থেকেও একটি বড় অগ্রগতি। প্রত্যর্পণের পর এনআইএ রানাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জেরা করবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
পাকিস্তান সরকার রানার সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করে নিজেদের দায়মুক্ত করতে চাইছে, এ কথা স্পষ্ট হলেও, প্রশ্ন থেকেই যায়—এই সন্ত্রাসী হামলায় যেহেতু পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার হয়েছিল এবং হামলাকারীদের বড় অংশ পাকিস্তানি নাগরিক ছিল, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ভাবে কি তাদের আরও দায় স্বীকার করা উচিত নয়? আন্তর্জাতিক মহল এই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।
তাহাউর রানার প্রত্যর্পণ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাস দমনের প্রেক্ষিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন দেখা যাক, ভারতীয় তদন্তকারীরা তাঁর কাছ থেকে ঠিক কতটা তথ্য আদায় করতে সক্ষম হন, এবং সেই তথ্য মুম্বই হামলার বিচার প্রক্রিয়ায় কতটা গতিবেগ আনে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে সন্ত্রাস দমন, কূটনৈতিক চাপ এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার জটিল সম্পর্ক আবারও সামনে উঠে এল। আর এর কেন্দ্রে রয়েছেন তাহাউর রানা—একজন বিতর্কিত, অথচ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
