চেন্নাইয়ের ক্রিকেট আকাশে ফের একবার ঘূর্ণি তোলার পথে মহেন্দ্র সিং ধোনি। দল যখন টালমাটাল, তখন আবারও রাজার সিংহাসনে ফিরেছেন মাহি। ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের কনুইয়ের চোট যে দলের ভারসাম্য একেবারে ওলটপালট করে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
অধিনায়কত্বের ভার এবার হয়তো অন্য কারও হাতে যেতে চলেছে, কিন্তু কে হবেন সেই ‘অজানা সেনাপতি’—তা নিয়ে চুপচাপ দলের ম্যানেজমেন্ট। কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং শুধু ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন, সব সিদ্ধান্ত ধোনির অভিজ্ঞ চোখে।
আইপিএলের নিয়মে সামান্য ফাঁক গলে ধোনিকে ‘আনক্যাপড’ হিসেবে ধরে রাখার পথ বের করে নিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা ধোনি ফের একবার দলে ফিরেছেন সেই পুরনো চাতুর্য নিয়ে।
এখন সব আলো ফোকাস একজায়গায়—ধোনির দিকে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন হয়ে যিনি দলকে চূড়ায় তুলেছেন, সেই পুরনো মাহি কি আবার জাদু দেখাবেন? একের পর এক চারটি হার, আত্মবিশ্বাসের ভাঁড়ারে ধস, আর অধিনায়কত্ব হারানো এক অনিশ্চিত দল—এই পরিস্থিতিতে একমাত্র নির্ভরযোগ্য মুখ তিনিই। তবে চাপের মাঝেও ধোনির চোখেমুখে নেই কোনো উদ্বেগের ছাপ।
বরং সেই পুরনো শান্ত, হিসেবি নেতৃত্বে ভর করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় নেমেছে চেন্নাই। সময় বলবে, মাহির এই কামব্যাক কতটা সফল হবে, কিন্তু ক্রিকেটবিশ্ব জানে—ধোনির হাতে ম্যাচ মানেই সম্ভাবনার গল্প।
তবে ধোনির চোখে-মুখে কোনও রকম উত্তেজনার ছাপ নেই। বরং সব কিছু নিরীক্ষা করে ঠান্ডা মাথায় নতুন রণকৌশল সাজাচ্ছেন তিনি। চাপের মুখে যেভাবে আগেও ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতাই এবার চেন্নাইয়ের ত্রাণকর্তা হতে পারে।
এখন দেখার, মাহির নিখুঁত পরিকল্পনায় দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাঁর মস্তিষ্ক যেন এক চলন্ত কম্পিউটার যেখানে প্রতিপক্ষের প্রতিটি দুর্বলতা একেকটা হিসেবের অঙ্ক। প্রশ্ন একটাই এই অভিজ্ঞ বাঘ আবার গর্জাবে তো? নাকি এবার চেন্নাইয়ের গাথা থেমে যাবে মাঝপথেই?
‘হেলিকপ্টার শট’-এর ঝলকে কি ফের ভাসবে স্টেডিয়াম, নাকি ইতিহাসে লেখা হবে এক হতাশার অধ্যায়? উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছে কোটি সমর্থক, আর ধোনি? তিনি বরাবরের মতো, নীরব থেকে সময়ের অপেক্ষায়।
