চাকরিহারাদের দাবির সঙ্গে মৌলিক কোনোও বিরোধ নেই, তবে আইনি সহযোগিতা ছাড়া কিছুই করা যাবে না বলেই জানান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। চাকরিহারাদের সঙ্গে বিকাশভবনে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন আমরা আশা করব আমাদের সরকারের কথায় আর আশ্বাসে কিছুটা সময় পেয়ে যাঁরা পথে নেমে আন্দোলন করছেন তাঁরা ভরসা করবেন আমাদের। কিছুটা হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভরসা করতে পারবেন তাঁরা। আমরা বলব আপনারা স্কুলে যান। একেবারে স্কুল এর থেকে দূরে সরে যাবেন না। একবার ছাত্রছাত্রীদের কথা ভাবুন। আর এর জন্য আপনারা সবাই স্কুলে ফিরুন। তবে যে রিভিউ পিটিশন দাখিল করে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফের আপিল করবেন ১৭ এপ্রিল তাতে কী ফল হবে সেটার দিকে তাকিয়ে আমরা সবাই। এদিকে যে ২২ লক্ষ ও এম আর শিট সিবিআই এর কাছ থেকে পাওয়া গেছে সেই তথ্য তাদের আপলোড করতে কোনো সমস্যা নেই বলেও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘‘যোগ্য ও অযোগ্যর তালিকা যে প্রকাশ করার দাবি চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন। এসএসসির কাছে এই তথ্য আছে সিবিআইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। আদালতেও তা জানানো হয়েছে। ওয়েবসাইটে তা তুলে দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। আমাদের তাতে আপত্তি নেই।’’ এই বিষয়ে আমরা দু পক্ষ সর্বসম্মত হয়েছি। বৈঠক শেষে বিকাশ ভবন থেকে ব্রাত্য বলেন, ‘‘যোগ্য বঞ্চিতদের যাতে চাকরি থাকে, সে ব্যাপারে আইনি প্রতিরক্ষা এবং সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মোতাবেক আমরা বিকাশ ভবনে বসেছিলাম। চিঠি লিখে ওঁরা এই বৈঠকের জন্য আবেদন করেছিলেন। বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। ওঁরা যা যা বলেছেন, তার সঙ্গে আমাদের মৌলিক কোনোও বিরোধ নেই। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি নির্দেশ আছে। আইনি সহযোগিতা ছাড়া এখানে কোনও কাজ আমরা করতে পারব না। ওঁদের দাবি ন্যায় সংগত।’’ সেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই আমরা কাজ করবো।
এই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ছাড়াও ছিলেন এসএসসি-র চেয়ারম্যান, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি, রাজ্যের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং আইন শাখার আধিকারিকেরা। চাকরিহারাদের ১৩ জন প্রতিনিধি এই বৈঠকে যোগ দেন। তবে শিক্ষামন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে ব্রাত্য বলেন, ‘‘কে চাকরির প্যানেল বাতিল করেছিলেন? সবাইকেই তো উনি দুর্নীতিগ্রস্ত বলে ছিলেন। চাকরিহারাদের আমি এখন অভিনন্দন জানাব। কারণ, ওঁরা বুঝতে পেরেছেন, এই সরকার ওঁদের পাশে আছে।’’ এই জায়গায় আমরা একটাই অনুরোধ করব কারা কুম্ভিরাশ্রু ফেলছেন এই শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য সেটা যে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন এটার জন্য ধন্যবাদ জানাই তাঁদের।
শিক্ষক অশিক্ষক প্রতিনিধিদের তরফে যাঁরা এই বৈঠকে হাজির ছিলেন তাঁরা বলেন পথে আমরা আছি। পথ নিশ্চয়ই আমাদের পথ দেখাবে। আমরা চাই আমাদের এই সমস্যার সমাধান। আর তাই সেই জন্য সরকার এর তরফে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রিভিউ আবেদন করা হবে সেদিকে আমরাও তাকিয়ে আছি। দেখা যাক আগামীদিনে কি হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই কথাই তুলে ধরেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তাঁদের মতে এখন আমরাও চাই একটা মীমাংসা হোক এই সমস্যার। আমাদের জীবন মরণের সমস্যা এটি। সরকার এর এই এগিয়ে আসাকে তাঁরা সদর্থক ভূমিকা বলেই মনে করছেন।
