আবার উত্তাল হতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি। একদিকে নবান্ন অভিযান, অন্যদিকে বহু প্রতীক্ষিত এসএসসি-র যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশ! এমন সমাপতনে যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা।
আগামী ২১ এপ্রিল, রাজপথে নামার ডাক দিয়েছে ‘ছাত্র সমাজ’। এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেইদিন নবান্ন অভিযান চালাতে চলেছে তারা। সূত্রের খবর, আরজি করের ঘটনায় যারা আন্দোলনের মঞ্চে ছিল, এবারও তারাই সংগঠক। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর পেছনে কার্যত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছায়া স্পষ্ট।
ঠিক এই একই দিনে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের তরফে চাকরি থেকে বঞ্চিতদের উদ্দেশে আশার আলো দেখানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চাকরিহারাদের ১৩ জন প্রতিনিধি। সেখান থেকেই উঠে আসে এক বড় ঘোষণা ২১ এপ্রিল বা তার মধ্যেই প্রকাশিত হতে পারে যোগ্য এবং অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথক তালিকা।
বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল জানায়, শিক্ষা মন্ত্রী ও কমিশনের তরফে তাঁদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তালিকা তৈরি আছে, কেবলমাত্র আইনি পরামর্শ চূড়ান্ত হলেই তা প্রকাশ করা যাবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ব্রাত্য বসুও জানান, সিবিআই একটি তালিকা তৈরি করেছে, কমিশন তা তিন বার সুপ্রিম কোর্টে পেশ করেছে। আশা করছি, ১৪ দিনের মধ্যেই তা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বেছে বেছে ২১ এপ্রিলই কেন? আন্দোলনের তারিখ আর তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য দিন একই হলে কি তার কোনও তাৎপর্য নেই? কাকতালীয় না কৌশল? সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত শিক্ষামন্ত্রী এড়িয়ে গেলেও, রাজ্যবাসী জানে—২১ তারিখ রাজনীতির আকাশে ঝড় আসছে!
