উস্কানিমূলক কর্মসূচি করা যাবে না, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে জানালো পুলিশ
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
চাকরিহারা শিক্ষকদের জলদানেও বাধা! এই প্রশ্ন তুলে শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে জড়ালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। রাস্তা আটকে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি করা যাবে না। এই যুক্তিতে চাকরি হারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সহ কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের ঘেঁষতে দিল না পুলিশ। সল্টলেকের এস এস সি ভবনের সামনে ঘটনা। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে আন্দোলনকারীদের কাছে পৌঁছানোর আগেই বাধা হয়ে দাঁড়ান। রাস্তা আটকাতেই বচসায় জড়ান কর্তব্যরত পুলিশ ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। ” জলদানেও বাধা? পুলিশকে প্রশ্ন শুভঙ্কর সরকারের। যদিও কর্তব্যরত পুলিশের যুক্তি, এই আন্দোলনকে সামনে রেখে কোনও রাজনীতি করা যাবে না। আগাম অনুমতি না নিয়ে এভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা যাবে না। আন্দোলনকারীদের উস্কানি দিতেই এই কর্মসূচি বলে স্পষ্ট ভাষায় শুভঙ্কর সরকারকে জানিয়ে দেয় পুলিশ। কোনও প্ররোচনামূলক কর্মসূচিকে অনুমতি দেওয়া হবে না পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। রাস্তার উপরেই কংগ্রেস নেতাকর্মীদের গাড়ি এবং কর্মীদের ভিড় জমে যায়। পুলিশ তখন পাল্টা যুক্তি দেখায়, সল্টলেকের মত জায়গার এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা আটকে কোনো কর্মসূচি বরদাস্ত করা হবে না। এই নিয়েই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বচসা বাধে পুলিশের। পুলিশি বাধায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা না করেই ফিরে যেতে হয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সহ কংগ্রেস নেতাকর্মীদের।
গতকাল বিকেলে শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করেন যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা। সেখানে এস এস সি চেয়ারম্যান যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ এবং সিবিআই এর উদ্ধার করা ও এম আর এর প্রতিলিপি প্রকাশ করার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু সুপ্রিম কোর্টের আইনে লড়াইয়ের কথা জানিয়ে যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীরা। আইনে পথেই তাদের চাকরি ফিরে পাবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু যাবতীয় আশ্বাস সত্ত্বেও চিঁড়ে ভেজেনি। আস্থা অনাস্থার দোলা চলে পড়ে এই সরকারি আশ্বাসেও ভরসা রাখছেন না আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাই কোন সার্ভিস কমিশনের অফিসের সামনেই রাতভর অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। আর এই অবস্থানকারী চাকরি-হারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পানীয় জলের বন্দোবস্ত করার জন্য শুক্রবার গভীর রাতে তাদের কাছে নিজেদের বার্তা নিয়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সঙ্গে ছিলেন বেশ কিছু নেতা ও সাধারণ কর্মীও। গোটা ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। ঘটনার পর শুভঙ্করবাবু জানান “চাকরিহারা শিক্ষকদের জল দেওয়ার মধ্যেও ষড়যন্ত্র ও উস্কানি খুঁজে পাচ্ছে পুলিশ। আসলে পুলিশের হাতে এই স্পর্ধা আর আশকারা একদিন বুমেরাং হয়ে ফিরবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদাতা পুলিশ মন্ত্রীর কাছে। ২০২৬ এর জুজু এখন থেকেই দেখছেন মমতা ও মমতার পুলিশ।
