অভিজিৎ বসু
কেন্দ্রের ওয়াকফ সংশোধনী আইন যে মেনে নেওয়া হবে না সেটা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে জুড়ে দিকে দিকেই চলছে কেন্দ্র বিরোধী বিক্ষোভও। যে বিক্ষোভের আগুন শহরে গ্রামে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আর এর মধ্যে আগামী বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইমামদের মুয়াজ্জিনদের ও সমাজের নানা বিশিষ্ট জনদের নিয়ে এক বৈঠকে ডেকেছেন। যে বৈঠকে তিনি বার্তা দেবেন পরবর্তী কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এই ওয়াকফ বিল ইস্যুতে। কিন্তু এর মাঝেই চারিদিকে বিশৃঙ্খলা অসন্তোষ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন জেলায় ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়। যেখানে পুলিশ কিছুটা অসহায় হয়ে গেছে যেনো। তৃণমূল কংগ্রেস সংসদে দাঁড়িয়ে এই বিলের প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবুও রাজ্য জুড়েই প্রতিবাদ মিছিল বিক্ষোভ আর অগ্নিসংযোগ চলছেই। এই জোর করে পাশ করানো ওয়াকফ বিল নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, কারুর প্ররোচনায় পা না দেওয়ার জন্য তারা আবেদন করেছে বারবার। কিন্তু এই আবেদন আর পাল্টা নানা রাজনৈতিক দলের নেতাদের কথাতে রাজ্যে এখন যেনো অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে কিছুটা। আর সেই সব কিছুকে একে অপরের ঘাড়ে দেবার চেষ্টা চলছে। হঠাৎ করেই কেমন ওরা আর আমরা নিয়ে ভাগাভাগি শুরু হয়েছে যেনো। তৃণমূলের বক্তব্য ধর্মীয় আবেগে আঘাত দিয়ে এই বিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পাশ করেছে। আর তাই বিজেপির মুখোশ খুলে দিতেই মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ডাক দেওয়া। সংখ্যালঘু সমাজের কাছে তৃণমূলের আবেদন, আন্দোলন প্রতিবাদ করুন কিন্তু গণতান্ত্রিক ভাবে করুন। কিন্তু রাজ্যে জুড়ে এখন অন্য ছবি। মুর্শিদাবাদ, পার্ক সার্কাস, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হুগলীর অন্য ছবি ধরা পড়ছে। যে ছবি বাংলার ছবি নয়। যেখানে বিধায়ক এর বাড়িতে আক্রমণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি যেভাবে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এর মধ্য একে অপরকে বিষোদগার করছে সেটা খুব একটা সুখের নয়। আর সেই আবহে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠক। কিন্তু সেই বৈঠক এরপর কি সত্যিই বদল হবে শান্ত হবে এই বাংলার অস্থির চিত্র। যে চিত্র আমরা সবাই দেখতে অভ্যস্ত নই এই রাজ্যে। রাজনীতির কারবারিরা বৈঠক করবেন। এই পক্ষ ওই পক্ষ বলে একে অপরকে দোষ দেবেন কিন্তু তাতে কি রাজ্যের চিত্র স্বাভাবিক হবে। আসলে আজকাল সব কিছুই যে ঠিক হয় সমাজের নানা স্তরের মানুষের বাঁচা বাড়ার চাহিদা অনুযায়ী নয় শুধুই রাজনীতির জন্য। যে রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে আটকে এই শান্ত পরিবেশ এর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে চলা সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের বাংলাও কেমন করে যেন অশান্ত হয়ে গেছে হঠাৎ করেই। কেউ বলছেন এর দায় কেন্দ্রের। আর কেউ বলছেন এর দায় রাজ্যের কারণ সংখ্যালঘু তোষণ এর রাজনীতি করে রাজ্য। দেখা যাক মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক এরপর সেই পরিস্থিতির বদল হয় কী না। না হলে যে দিন দিন বিপদ বাড়বে আরও। রাজনীতি ভুলে সবাই মিলে একসাথে এক হয়ে মিলে মিশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে চলি।
