আবেদন খারিজ করে কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ কলকাতা হাইকোর্টের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
নির্বাচন পরিচালনা এবং নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচকদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কাজে সন্তোষ প্রকাশ আদালতের। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতিতে ত্রুটি খুঁজে পাইনি আদালত। বরং সংবিধানের ২২৬ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ বা মামলার আবেদন অনুযায়ী বিধানসভার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না আদালত বলে জানিয়ে দিল কলকতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
ভূয়ো ভোটার বা ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড নিয়ে যে রাজনৈতিক ইস্যুতে গোটা দেশ তোলপাড় হয়েছে তার ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে একটি মামলা রুজু হয়। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে নির্বাচক বা ভোটারদের নাগরিকত্ব নিয়ে যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা করতে অপারগ নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে যারা ভোটের প্রার্থী হচ্ছেন তাদের নাগরিকত্ব নিয়েও ব্যাপক গরমিল রয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনে যারা প্রার্থী হচ্ছেন তাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক রয়েছেন যারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বেআইনিভাবে যুক্ত হচ্ছেন। ২০২৬ সালে রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট এই সম্বন্ধে যথোপযুক্ত নির্দেশ দিক মামলার পিটিশনে এই আবেদন করা হয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চে। যদিও প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেন মামলার আবেদনে যা বলা হয়েছে সে ব্যাপারে আদালতের হস্তক্ষেপ সংবিধানের ২২৬ ধারার পরিপন্থী। বিধানসভার বিষয়ে অথবা নির্বাচন কমিশনের কাজে এভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারেনা বিচার ব্যবস্থা বা আদালত বলেও জানায় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি আরো জানান নির্বাচক বা ভোটারদের তথ্য বা নাগরিকত্ব ভেরিফিকেশনে এবং যারা ভোটের প্রার্থী তাদের নাগরিকত্ব ভেরিফিকেশনের যে পদ্ধতি নির্বাচন কমিশনে রয়েছে তা যথেষ্ট উপযুক্ত। একাধিকবার তথ্য প্রমাণ যাচাই করেই ভোটার বা ভোট প্রার্থীর নাগরিকত্ব সম্বন্ধে নিশ্চিত হয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা তৈরীর ক্ষেত্রে যেমন এই যাচাইয়ের কাজ হয় তেমনি প্রার্থী পদে যখন মনোনয়ন নেয়া হয় তার নির্দিষ্ট যে পদ্ধতি রয়েছে সেক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের যথেষ্ট উপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার এবং ভোট প্রার্থীদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা এবং পদ্ধতি নিয়ে যে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং যে আবেদন জানানো হয়েছে মামলা পিটিশানে তা আদালত যত উপযুক্ত বলে মনে করছে না এবং সংবিধানের ২২৬ ধারার পরিপন্থী বলেই মনে করা হচ্ছে বলে মামলার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। একই সঙ্গে এই মামলার আবেদনটিও খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
