“ধর্মই শান্তি” জীবনে জয়ী হতে শান্তি বজায় রাখুন বার্তা মমতার
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
“নিজেকে আলাদা করে রাখলে জয় করা যায় না। নিজেকে আড়াল করলে জীবনের জয় হয় না।
ধর্ম নিয়ে অধার্মিক খেলা খেলতে নেই। কারা এই ধরনের খেলা খেলে ! ধর্ম মানে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, মানবিকতা, সম্প্রীতি, একতা, সংস্কৃতি ও শান্তি। তাই কিসের লড়াই, কিসের দাঙ্গা ?” কালীঘাট মন্দিরের স্কাইওয়াক উদ্বোধন করে রাজ্যের সাম্প্রতিক অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন
“সরকারি অনুমতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করার অধিকার সবারই আছে। কেউ কারও প্ররোচনায় আইন হাতে তুলে নেবেন না। কোনো প্ররোচনায় পা দেবেন না। আইনের রক্ষক আছে, আইনের ভক্ষক হবেন না।”
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কালীঘাট মন্দিরকে নবকলেবড়ে গড়ে তোলা, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কালীঘাট মন্দির সংলগ্ন রাস্তায় স্কাইওয়াক উদ্বোধন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নতুন হকার্স কর্নারের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই কালীঘাট মন্দির চত্বরে আজ ছিল চাঁদের হাট। আগামীকাল বাংলা নববর্ষ। তার আগে কালীঘাট মন্দিরের এই উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করে শুধু ধর্মানুরাগীদের নয় রাজ্যের সাংস্কৃতিক মনষ্ক আপামর জনসাধারণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নববর্ষের বিশেষ শুভেচ্ছা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্য বাংলা নববর্ষের দিনে কালীঘাটে হালখাতা করেন বহু ব্যবসায়ী মানুষজন। আগামীকাল ভোর থেকেই তাই সাজু সাজু রব হবে এই কালীক্ষেত্রে। আর মন্দিরে আসা অগণিত ভক্তগণ সাক্ষী থাকবেন নতুন স্কাইওয়াক ও আলোকমালায় সজ্জিত নবকলেবরে তৈরি হওয়া এই কালি ক্ষেত্র দর্শনে।
এ দিনের উদ্বোধনী কর্মসূচিতে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন ২০১৮ সালে দক্ষিণেশ্বরে কাইওয়াক উদ্বোধন কর্মসূচি থেকেই কালীঘাট মন্দিরের এই স্কাইওয়াক তৈরির ভাবনা শুরু। কিন্তু বাঁধ সেঁধেছে রাস্তা ও জমির সংকুলান। সমস্যা ছিল হকারদের পুনর্বাসন নিয়েও। বহুবার বৈঠক করেও কলকাতা পুরসভা কর্তৃপক্ষ এই সমস্যার সমাধান সূত্র খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শক্রমে হাজরা পার্কে হকারদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরি করা হয়। স্কাইওয়াক তৈরীর জন্য এই পুনর্বাসনে স্থানান্তরিত হতে সাহায্য করেন হকার রাও বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তুমি জানান, কালীঘাট মন্দিরটি নবকলেবড়ে সাজানো হয়েছে সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের উদ্যোগে। শুধুমাত্র মন্দিরের সোনারচূড়া তৈরি করে দিয়েছেন দেশের স্বনামধন্য বহুজাতিক কোম্পানি। যে পরিকল্পনায় এই স্কাইওয়াক তৈরি করা হয়েছে তাতে এলাকার যানজট যেমন কাটবে মানুষ খুব স্বস্তিতে তীর্থস্থান ভ্রমণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪৩৫ মিটার দীর্ঘ তিনটি প্রস্থান গেট রয়েছে এবং দুটি করে এস্কেলেটর রয়েছে। কাইওয়াকের একপাশে হকারদের ডালা ও উপাচারের দোকান রয়েছে। ফলে আগামীকাল নববর্ষের দিনে উন্নারটি থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী সকলের আবেগ ও ভক্তিভাব মিলেমিশে একাকার হয়ে ভক্ত ভগবানের মিলনস্থান হয়ে উঠবে এই কালীক্ষেত্র বলেও মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের বক্তব্যে মমতার স্মরণ করিয়ে দেন দক্ষিণেশ্বর মন্দির থেকে তারাপীঠ মন্দিরের কথা। এমনকি সতীপীঠ কঙ্কালীতলা তারকেশ্বর নকুলেশ্বর মন্দির থেকে শুরু করে ফুরফুরা শরীফ ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মাজার ও পীর গুলির উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন মমতা। দশ বছর আগের তারাপীঠ মন্দির আর বর্তমানে তারাপীঠ মন্দিরের মধ্যে ফারাক দেখলেই বোঝা যায় উন্নয়নের বহর কতটা মন্তব্য মমতার। তবে খুবই সংকীর্ণ রাস্তার জন্য তারাপীঠে স্কাইওয়াক করা সম্ভব নয় বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিজের বক্তব্যের শেষে রাজ্যবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আবেদন, ” বাংলা ছাড়া ভারত এবং সারা পৃথিবীতে গ্রহণ করে। এই বাংলার মাটিকে ভালোবাসুন। বাংলার মাটি শান্তির ঘাঁটি, বাংলায় শান্তি বজায় রাখুন”।
