সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আজ শুভ নববর্ষ, ১৪৩২।
আজ দিনভর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি ‘বাংলা দিবস’। পয়লা বৈশাখ রাজ্য সরকার ‘বাংলা দিবস’ হিসেবে পালন করছে। বিধান সভায় সরকারি ভাবে পয়লা বৈশাখ রাজ্য দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর গত বছর পয়লা বৈশাখে ছিল প্রথম রাজ্য দিবস। কিন্তু লোকসভা ভোটের আদর্শ আচরণবিধির কারণে তেমন ভাবে উদযাপন করা যায়নি দিনটি। তবে সরকারি স্তরে ছোট আকারে দিনটি পালন করেছিল রাজ্য সরকার। এবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যথাযথ মর্যাদায়‘বাংলা দিবস’ পালন করা হবে রাজ্য জুড়ে। রবীন্দ্রসদনের একতারা মুক্তমঞ্চে পয়লা বৈশাখ সকাল ৮টা থেকে শুরু। দিনভর চলবে বঙ্গসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত নানা অনুষ্ঠান। পাশাপাশি, রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে বিকেলে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের উপস্থিতিতে ‘বাংলা দিবস’ পালিত হবে। সেখানে জনপ্রিয় শিল্পীদের উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। জেলা স্তরেও তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ ‘বাংলা দিবস’ পালন করবে। প্রসঙ্গত, এ বছর অনেক আগে থেকেই লিখিত বিবৃতি জারি করে তৃণমূলের রাজ্য সংগঠন থেকে শুরু করে জেলা, ব্লক ও বুথ স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। লিখিত নির্দেশে বাঙালি গরিমাকে জাগিয়ে তুলতে দিনটি পালন করতে বলেছেন তিনি। তাই তৃণমূলের নেতারা পয়লা বৈশাখে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের কর্মসূচিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে এবার রাজ্য সরকার ‘বাংলা দিবস’ হিসেবে পালন করছে। আজ রাজ্যবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যজুড়ে বাংলা দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রয়াত প্রতুল চক্রবর্তীর ‘ আমি বাংলায় গান গাই’ এই গানটিকে উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন “আরও বিকশিত হোক রাজ্যের ঐতিহ্যময় সংস্কৃতি, আরও সুদৃঢ় হোক রাজ্যবাসীর ভ্রাতৃত্ব-বন্ধন।” রাজ্যজুড়ে যেখানেই ‘বাংলা দিবস’ পালন করা হবে সেখানেই বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট ফরম্যাট মিনি গাইতে হবে রাজ্য সংগীত ” বাংলার মাটি বাংলার জল”। এই মর্মে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশিকাও রয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।
শুধু এরাজ্যেই নয়, দিল্লিতেও পালিত হচ্ছে ‘বাংলা দিবস’। দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কের কাছে দিল্লি সরকারের ব্যবস্থাপনায় ‘বাংলা দিবস’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার ছবিসহ সরকারি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে দিল্লি সরকার।
