বিনা দোষে দোষের ভাগী কেন? উত্তর খুঁজতে যন্তর মন্তরে যোগ্য চাকরিহারারা
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
একদিকে যখন রাজ্যে নয়া কেন্দ্রীয় ওয়াকফ আইন নিয়ে অশান্তির আগুন জ্বলছে ঠিক তখনই রাজ্যের যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্দোলনের আঁচ পড়ল রাজধানী দিল্লিতে। প্রায় ৩০ ঘন্টা কলকাতা থেকে বাস জার্নি করে আজ সকালেই দিল্লিতে পৌঁছে দুপুরে দিল্লি যন্তর মন্তরে ধরনা অবস্থানে বসবেন যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। দুপুর দুটো থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জন্তর মন্তরে ঝরনার অনুমতি পেয়েছেন তারা। ‘বিনা দোষে বলি হয়েছেন তারা’ এই বাট্টা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকার এমনকি দেশের শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান রাজ্যের এস এস সি মামলায় প্যানেল বাতিল হওয়া প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীদের মধ্যে যোগ্য বলে বিবেচিত চাকরিহারারা। ‘ যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী ঐক্যমঞ্চ’ এই সংগঠনের ছাতার তলায় একজোট হয়ে গতকাল রাতে কলকাতা থেকে বাসে চড়ে দিল্লির পথে রওনা দেন যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর প্রতিনিধিরা। আজ দুপুরে তিন ঘন্টার ঝর্ণা অবস্থানে পর তাতেই এর পাশে জোরে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তারা। কেন ঝটিতি কর্মসূচি? রাতভর বাসজার্নি করে তিন ঘণ্টার জন্য দিল্লিযাত্রা? আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেরা দোষী না হয়েও অন্যদের দোষে সাজা ভুগতে হচ্ছে এই যোগ্য চাকরিহারাদের। কেন এমনটা হবে? দোষ না করেও কেন দোষের ভাগী হবেন তারা? বিচারের বাণী কেন নিরবে নিভৃতে কাঁদবে? এই প্রশ্নগুলি যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন যোগ্য চাকরিহারারা। নিজেদের দাবি দাওয়া নিয়ে আদালত তথা দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই ঝটিতি দিল্লিযাত্রার সিদ্ধান্ত ভুলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এর জন্য নির্দিষ্টভাবে লিফলেট তৈরি করা হয়েছে। দিল্লির রাজপথে বিলিও করেছেন যোগ্য চাকরিহারারা। তাদের দাবি, লিফলেটে উল্লেখ করা বক্তব্য বা দাবি দেওয়ার সঙ্গে সমব্যথী বা সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বহু মানুষজন। প্রসঙ্গত রাজ্য সরকার যোগ্য চাকরিহারাদের চাকরির নিশ্চয়তা দিলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তারা বাদের খাতায়। এই অবস্থায় রাজ্য সরকার চাকরিতে বহাল রাখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাচ্ছে। মূলত, নিজেদের নির্দোষ হিসেবে তুলে ধরতে দেশের সর্বোচচ আইনি ও প্রশাসনিক প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই কর্মসূচি আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু দিল্লির রাজপথেই নয় বাংলা ও হিন্দিতে লেখা লিফলেট বিলি করা হবে যন্তর মন্তরেও। তাদের সঙ্গে যে অবিচার হয়েছে, যেভাবে তাদের চাকরি ছুরি করা হয়েছে এবং বিনা দোষে তারা যেভাবে দোষের ভাগী হয়েছেন তা দেশের মানুষকে বোঝাতেই এই যন্তর মন্তরের কর্মসূচি বলে জানান চাকরিহারারা।
