ওয়াকফ বিরোধিতায় জুট বেঁধে লড়বে ‘ইন্ডিয়া’ বললেন মমতা
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
“বাংলায় নয়, দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করুন। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চান। আমি আপনাদের পক্ষে। আমি হিন্দুরও পক্ষে, আমি খ্রিস্টানেরও পক্ষে।আমি কথা দিচ্ছি আমার তৃণমূল কংগ্রেসের সব সাংসদরা আপনাদের সঙ্গে থাকবেন।” আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইমাম মোয়াজ্জেন ও মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের ডাকা সম্মেলনে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, যদিও বিএসএফের গুলি চালিয়েছে, তবুও গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেবে রাজ্য সরকার। যাদের বাড়ি ভেঙেছে তাদের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্য সংসদের উভয় কক্ষে ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫ পাস করিয়ে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে তা আইনে পরিণত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে এই নতুন ওয়াকফ সংশোধনী আইনে রাজ্যের কোন ভূমিকা নেই। তাই আন্দোলন করতে হলে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করুন, পরামর্শ মমতার। বরং মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ” ওয়াকফ সংশোধনী আইন করা হয়েছে বটে কিন্তু সংবিধানে সংশোধন করা হয়নি। তাই দলীয়ভাবে তৃণমূল কংগ্রেস তা সমর্থন করেনি, করবেও না।” এই অশান্তি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘর ভেঙে দেওয়ার নেপথ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই অভিযোগ করা হয়েছে। সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে মমতার যুক্তি, তৃণমূল কংগ্রেস যদি করতো তাহলে তৃণমূলের তিনজন বিধায়কের বাড়ি ভাঙা হতো না। মমতার কথায় “আমি উস্কানি দিতে আসিনি। আমি শান্তি চাই।” তাঁর মতে, “আমার যেমন অধিকার নেই কোনো মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিকার করা। আমাদের দল সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছে, কোর্টে কেস করেছে। আমি যতদিন বাঁচবো ততদিন হিন্দু মুসলমান এ ভাগ আমি করতে দেবো না।” তিনি বলেন, সংবিধানে আমাদের সব ধর্মের জন্যই নিজেদের সম্পত্তি রক্ষা করার অধিকার দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেঙ্গল ওয়াকফ আইন, ১৯৩৪ পরে ১৯৫৪ সালে জাতীয় আইন হয়। যদিও এই নতুন ওয়াকফ সংশোধনী আইন এন্টি ফেডারেল আইন বলে উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মূলত এই দিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে ওয়াকফ অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে এক হাত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নয়া কেন্দ্রীয় ওয়াকফ সংশোধনী আইন এবং তা নিয়ে উদ্ভূত অশান্ত পরিস্থিতির জন্য বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিরোধীদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও অযথা তাড়াহুড়ো করে সংসদে একপ্রকার জোর করে এই ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস করিয়েছে কেন্দ্র। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা জেনেও কিসের এত তাড়াহুড়ো? প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। সংবিধানের ২৬ ধারায় যেকোনো ধর্ম পালনের স্বাধীনতা আছে। সম্পত্তি অর্জন এবং রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার দেওয়া আছে। মমতার কথায় “রাম-রহিম সবার সমান অধিকার দিয়েছে সংবিধান। আমি এখনও চ্যালেঞ্জ করে বলছি (কেন্দ্রীয় সরকারকে) আপনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি জানেন না? কেন এত তাড়াহুড়ো করছেন? আপনি ইউনূসের সঙ্গে গোপন মিটিং করুন। দেশের ভালো হবে ঠিক আছে। আপনার পরিকল্পনা কি? এজেন্সি দিয়ে ওখান থেকে লোক নিয়ে এসে দাঙ্গা করা?” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ “ফেক ভিডিও দেখিয়ে বাংলায় অশান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আটটা ভিডিও কোনটা উত্তরপ্রদশের আবার কোনটা অন্য কোন জায়গার। বাংলার নামে বদনাম করছে। আমরা সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাস করি। বাংলার মাটিতে বিজেপির কথাতে উত্তেজিত হবেন না।” অভিযোগ তুলে মমতা বলেন “ওরা আগে রাম নবমীর দিন এটা করতে চেয়েছিলো। তাছাড়া সব সমাজেই কিছু গদ্দার রয়েছে। তারা টাকা নিয়ে এসব করে।” বরং ইন্ডিয়া জোটের সবার কাছে মমতার আবেদন “ওয়াকফ নিয়ে সবাইকে একসাথে প্রতিবাদ করতে হবে।”এদিন ইমাম-মোয়াজ্জেন ও মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেন ওয়াকফ সম্পত্তি অনেক হিন্দুরাও দান করেছেন। তাই বিজেপি চাইছে সরাসরি ওয়াকফের দখল নিতে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর কথায় “আম গাছে আমড়া হয় না। আর দেখুন চন্দ্রবাবু নাইডু চুপচাপ বসে আছেন। নীতিশ বাবু চুপচাপ রয়েছেন। ওয়াকফ চ্যালেঞ্জ হবে। এরপর ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়ে আসবে। সেটাও চ্যালেঞ্জ হবে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন “এরপর অনেক পরিবর্তন হবে দিল্লিতে। আবার নতুন সরকার হবে। এবং নতুন সরকারে আশাকরি হামাগুড়ি বাবু থাকবেন না। নতুন সরকার বিজেপির আইনগুলো সংশোধন করবে।” মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা
“দাঙ্গায় যদি কেউ উস্কানি দেয় তাহলে সে যেই হোক, হিন্দু হোক, মুসলমান হোক কাউকেই কিন্তু আমি ছাড়বো না।”
