
রাজ্যের তরুণ-তরুণীদের জন্য চালু হওয়া ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পে ইতিমধ্যে প্রায় ৭৭ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। এত বিপুল সাড়া পাওয়ার কারণে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে বলেই প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। উদ্যোগটি চালু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন জানানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় প্রশাসনের তরফে সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক পাস যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে কিছুটা আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
আবেদন করার জন্য রাজ্যজুড়ে ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে শহর থেকে গ্রাম সব জায়গা থেকেই বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, বুধবার পর্যন্ত ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মোট ৭৬ লক্ষ ৭৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। জেলা অনুযায়ী হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে। তার পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া।
এই প্রকল্পের পাশাপাশি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পেও নতুন করে আবেদন জমা পড়ছে। রাজ্যজুড়ে চলা ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবিরে বহু মহিলা নতুন করে আবেদন করতে ভিড় করছেন। সম্প্রতি এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে। ফলে যাঁরা আগে আবেদন করেননি, তাঁরাও এখন নতুন করে ফর্ম পূরণ করছেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থ প্রতিমন্ত্রী Chandrima Bhattacharya ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, আগামী ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হবে। তবে পরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee ঘোষণা করেন, প্রকল্পটি আগামী ১ এপ্রিল থেকেই চালু করা হবে।
তরুণদের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ যে অত্যন্ত বেশি, তা আবেদন সংখ্যাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগ রাজ্যের বহু বেকার যুবক-যুবতীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
