সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
—‐———————-
দীঘায় যখন জগন্নাথ মন্দিরের কাউন্টডাউন শুরু ঠিক তখনই কাঁথিতে সনাতনী ধর্ম সম্মেলনের আয়োজন করল সনাতনী সংস্কার অনুশীলন সেবা ট্রাস্ট।
কাঁথির একটি বেসরকারি জায়গায় এই ধর্ম সম্মেলন এর আয়োজন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশি অনুমতি না মিললে জল গড়ায় হাইকোর্টে। দুপক্ষের সওয়াল জবাব শেষে ধন্য সম্মেলন করার শর্তাধীন অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। একসঙ্গে ৩০০০ ভক্ত ঢুকতে পারবে, ভালোবাসা পর্যাপ্ত পানীয় জল, বায়ো টয়লেট সহ পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ব্যবস্থা রাখতে হবে আয়োজকদের। সমস্ত স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা সহ নিলেন পক্ষে কুড়ি জন স্বেচ্ছাসেবকের টেলিফোন নাম্বার কাঁথি থানায় জমা রাখতে হবে যাতে কোন সমস্যা হলে দ্রুত পুলিশ যোগাযোগ করতে পারে। নির্দেশ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের। রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী কর্মসূচির দিনে এই ধর্ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে পুলিশি নিরাপত্তায় খামতির কথা বলা হলেও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে দায়িত্ব নিতে হবে পুলিশকেই।
একদিকে যখন আগামীকাল দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে রাজকীয় আয়োজন ঠিক একই দিনে কাঁথির একটি বেসরকারি জায়গায় বিরাট ধর্ম সম্মেলন এর আয়োজন করতে চায় সনাতনী সংস্কার অনুশীলন সেবা ট্রাস্ট।
যেহেতু দিঘার কাছেই অবস্থিত কাথিতে এত বড় সম্মেলন হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা মুশকিল হবে সেই কারণ দেখে এই ধর্ম সম্মেলন করার অনুমতি দেয়নি কাঁথি থানার পুলিশ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এলাকা কাঁথিতে এই ধর্ম সম্মেলনের অনুমতি না মেলায় একদিকে যেমন রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেড়েছে অন্যদিকে তার জল গড়ায় হাইকোর্টেও। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এই সম্মেলন হলে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা পানীয় জল সরবরাহ থেকে শুরু করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা অথবা দুর্ঘটনার মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে পুলিশি ব্যবস্থা শান্তির কথা আদালতে জানান রাজ্যের আইনজীবী। একই জেলার মধ্যে দীঘায় আন্তর্জাতিক মানের একটি রাজ্য সরকারি অনুষ্ঠান থাকায় গোটা পূর্ব মেদনীপুর জেলা পুলিশ সেখানে ব্যস্ত রয়েছেন। আর্থিক ওই দিনেই দিঘার কাছেই কাঁথিতে এই ধরনের সম্মেলন। আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় রাজ্যের পক্ষ থেকে। যদিও আয়োজকদের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান যেহেতু বেশিরভাগ মানুষই স্থানীয় বাসিন্দা তাই অনুষ্ঠানস্থলে গাড়ি রাখার প্রয়োজন হবে না। কাঁথির নাম শুনেই যখন রাজনৈতিক সংস্রবের প্রশ্ন ওঠে তখন আয়োজকদের আইনজীবী জানান এই সম্মেলন বা আয়োজকদের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর কোন যোগ নেই। তবে কাঁথির বাসিন্দা হিসেবে তিনি যদি এই সনাতনীদের সভায় আসতে চান তাহলে আসতেই পারেন। দিনভর প্রায় ৫০ হাজার সনাতনীদের সমাগম হলেও একসঙ্গে সেখানে পাঁচ হাজার মানুষের উপস্থিতি থাকবে বলেও জানান আয়োজকদের আইনজীবী। যদিও বেশ কিছু শর্ত আরোপ করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ একসঙ্গে তিন হাজার মানুষকে নিয়ে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এই সনাতনী সম্মেলনের আয়োজনের অনুমতি দেন।
