দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি
সারা রাজ্য জুড়ে অক্ষয় তৃতীয়ার শুভক্ষণে যেন উৎসবের আমেজ। একদিকে দীঘায় জগন্নাথ দেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যখন সৈকত নগরী মেতে উঠেছে তখন মাহেশে জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রার মধ্যে দিয়ে সূচনা হলো ৬২৯ তম রথযাত্রা উৎসব। আগামী ৪২ দিন ধরে মাহেশে জগন্নাথ দেবের সারা অঙ্গে চন্দন লেপন করা হবে। পুরীতে ৪২ দিনব্যাপী এই চন্দন যাত্রা দুটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। প্রথম ২১ দিন হল বাহির চন্দন যাত্রা, পরের ২১ দিন হল অন্দর চন্দন যাত্রা। পুরীতে প্রথম ২১ দিন জগন্নাথ দেবের প্রতিকী হিসেবে বিজয় বিগ্রহকে নরেন্দ্র সরোবরে নিয়ে গিয়ে চন্দন লেপন করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে পরের ২১ দিন মন্দিরের ভিতরে জগন্নাথ দেবের সারা অঙ্গে চন্দন লেপন করা হয় যার নাম অন্দর চন্দন যাত্রা। যেহেতু মাহেশে কোনো সরোবর নেই তাই মন্দিরের ভিতরে রত্নবেদীর উপর একটানা ৪২ দিন ধরে জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
কিন্তু এই চন্দন যাত্রার সূচনার মূল কারণই হলো গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে দুঃসহ হয়ে ওঠে মানুষের জীবনযাত্রা। কথিত আছে এই তীব্র দাবদাহের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে জগন্নাথ দেব রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে নির্দেশ দেন বৈশাখের শুক্লপক্ষে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন যেন তার সারা অঙ্গে চন্দন লেপন করা হয়। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে শুরু করে একটানা ৪২ দিন ধরে এই চন্দন যাত্রা চলে। পুরানের সেই রীতি মেনে বুধবার অক্ষয় তৃতীয়ার শুভক্ষণে মাহেশে জগন্নাথ দেবের এই চন্দন যাত্রা শুরু হয়। এদিন মন্দিরের ভিতর প্রথমে জগন্নাথ দেবের মাথায় চন্দন লেপন করা হয়। তারপর বিগ্রহের দুটি চোখকে বাদ দিয়ে সারা অঙ্গে চন্দন মাখানো হয়। এইভাবে একটানা ৪২ দিন চন্দন যাত্রা চলার পর ১১ জুন মন্দির থেকে বের হয়ে জগন্নাথ দেব স্নানযাত্রায় অংশ নেবেন। তারপর ২৭ জুন মাহেশ থেকে রথে করে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন জগন্নাথ।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
