পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরেছে। দেশ জুড়ে শোকের ছায়া—তবে ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট: এবার আর শুধু নিন্দা নয়, এবার পাল্টা জবাব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হামলার পদ্ধতি, সময় এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করবে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী। তবে প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, এবার শত্রুর গায়ে জ্বলবে প্রতিশোধের আগুন—যেখানে শাস্তি হবে ‘কল্পনারও বাইরে’।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, হামলাকারীরা, পরিকল্পনাকারীরা এবং তাদের আশ্রয়দাতারা—কারোরই রেহাই নেই। শীর্ষ থেকে তলার প্রতিটি ষড়যন্ত্রকারীকে পৌঁছে দিতে হবে সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে পূর্ণ স্বাধীনতা—যা প্রমাণ করে, এবার প্রতিক্রিয়া নয়, প্রত্যাঘাত অবশ্যম্ভাবী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পহেলগাম হামলার পেছনে লস্কর-ই-তৈয়বার (LET) জড়িত থাকা প্রায় নিশ্চিত। আর তাই ভারতের প্রথম লক্ষ্য হতে পারে পাকিস্তানে বসে থাকা লস্কর নেতৃত্ব এবং তাদের গোপন ঘাঁটি। অতীতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা বালাকোট বিমান হানার মতো অভিযান এবারও ফিরে আসতে পারে আরও ভয়ঙ্কর রূপে।
সূত্রের খবর, এবার হয়তো অভিযান হবে মার্কিন মডেলে—যেমন ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়েছিল পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে। গভীর প্রবেশ অভিযান, কমান্ডো টাস্ক ফোর্স, ড্রোন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র—সবকিছুই ভারতের অপশন লিস্টে। প্রয়োজনে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর কিংবা পাকিস্তানের ভিতরেও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে উরি এবং পুলওয়ামার ঘটনার পরে ভারত যেভাবে দ্রুত এবং কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, তেমনই এবারও প্রস্তুতি তুঙ্গে। শুধু তাই নয়, এবার আন্তর্জাতিক সমর্থনও ভারতের পক্ষে। ফলে পাকিস্তান বুঝে গেছে—এইবার তাদের ‘তালিবানি বন্ধুদের’ আর রক্ষা নেই।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হঠাৎ সাক্ষাৎও এই বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক—তিন দিক থেকেই এবার একযোগে আঘাত আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শেষ কথা একটাই—এই প্রতিশোধ হবে নিঃশব্দ নয়, হবে বজ্রের মতো। ভারতের সিংহগর্জন এবার আর কেবল হুঁশিয়ারি নয়, বরং শত্রুর জন্য অনিবার্য নিয়তি। এখন গোটা দেশ অপেক্ষা করছে—এই অপারেশন শুরু হবে কখন, এবং তা কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে!
