সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ফের দেশে যুদ্ধের দামামা। পশ্চিমবঙ্গসহ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে কড়া সতর্কতা। চলছে যুদ্ধের মহড়া, বাজছে সাইরেন। “আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকুন” বার্তা রাজ্য প্রশাসনের। আতঙ্কিত না হলেও সাধারণ মানুষের অস্বস্তির একটা বড় কারণ হতে পারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা। বিশেষ করে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি অসাধু বা মুনাফা নবী ব্যবসায়ীদের কাছে কালোবাজারি বা ব্ল্যাক মার্কেটের একটা সাধু সময়। এই পরিস্থিতিতে যাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাত্রা স্বাভাবিক থাকে এবং রাজ্যবাসীকে যাতে কালোবাজারির শিকার না হতে হয় তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ রাজ্যের দোকান-বাজারগুলিতে দ্রব্যমূল্যের দামস্তর কি রয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী এবং বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে তার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কি দামস্তর থাকা উচিত এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কালোবাজারি যাতে না হয় এগুলির নজরদারি বাড়াতে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে বৈঠকে পশ্চিম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে রাজ্যের কৃষি এবং কৃষি বিপণন দপ্তর, খাদ্য দপ্তর, রাজ্য পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্তারা, রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের কর্তারা সহ রাজ্য সরকার গঠিত টাস্ক ফোর্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। গতকালই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যাতে অসাধারণ উপায়ে বা কালোবাজারি মাধ্যমে না বাড়ানো হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে রাজ্য সরকার। গতকালই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী ১০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই বৈঠকের প্রেক্ষিতেই একটি কেন্দ্রীয় গাইডলাইন ও রাজ্যগুলিকে পাঠানো হয়েছে। আপাতত এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ওই কেন্দ্রীয় গাইডলাইন কে মান্যতা দিয়ে রাজ্য সরকার বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার ভিত্তিতেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যবসায়িক মুনাফার লোভে যাতে কোন কুপ্রভাব না পড়ে সেদিকেও সজাগ ও সতর্ক থাকতে চায় নবান্ন। রাজিব কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না জানিয়েছেন, ” মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আজ বিকেলে এই জরুরী ও পরিস্থিতি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যাতে কোনোভাবেই রাজ্যবাসীর সাধারণ জীবনযাত্রায় কোন প্রভাব না পড়ে সেদিকে দৃষ্টি রেখেই দ্রব্যমূল্য কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেই বিষয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হবে এই বৈঠকে।” যদিও এ ধরনের বৈঠক নতুন নয়, রাজ্য সরকার গঠিত টাস্ক ফোর্স এর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে কৃষি বিপণন দপ্তর বৈঠক করে বলেও জানান কৃষি বিপণন মন্ত্রী।
