মঙ্গলবার রাতেই শেষ হয়নি অপারেশান সিঁদুর। তা চলছে। সরকারের ডাকা সর্বদল বৈঠক শেষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে উদ্ধৃত করে এমনই জানালেন মোদী মন্ত্রিসভার সদস্য কিরেন রিজিজু। সম্মিলিত ভাবে বিরোধীরা সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনা ও সরকারকে সমর্থনের কথা স্পষ্ট করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। সরকারের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, না শোধরালে আবারও পাকিস্তানের ভিতরে থাকা জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেবে ভারতীয় সেনা।
বৃহস্পতিবার সকালে নয়াদিল্লিতে বসেছিল সর্বদল বৈঠক। আগের বারের মতোই এ বারও সেখানে হাজির ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে উপস্থিত ছিলেন রাজনাথ সিংহ, অমিত শাহ, এস জয়শঙ্কর, নির্মলা সিতারামন, কিরেন রিজিজুরা। বিরোধী দলগুলির মধ্যে হাজির ছিলেন কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সাংসদ রাহুল গান্ধী, তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিএমকের টিআর বালু, মিমের আসাদুদ্দিন ওয়াইসি, আপের সঞ্জয় সিংহ প্রমুখ। বৈঠকের শুরুতেই বিরোধী দলের নেতাদের কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন রাজনাথ। কেন্দ্রের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সর্বদল বৈঠকে অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে কী ভাবে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটিগুলিতে প্রত্যাঘাত করা হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়। রিজিজুর দাবি, সেখানে রাজনাথ জানিয়েছেন, অপারেশান সিঁদুর শেষ হয়ে যায়নি, তা চলছে। অর্থাৎ, পাকিস্তান বাড়াবাড়ি করলেই আবার ভারতীয় হামলা চলতে পারে সীমান্তের ও পারে। বিরোধীরা সম্মিলিত ভাবে সরকার এবং সেনার পাশে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি খড়্গে যদিও বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর গরহাজিরা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই সঙ্গে জানান, এই পরিস্থিতিতে এ নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলতে চান না। তিনি সরকারের পাশে দাঁড়ান। জানিয়ে দেন, এই বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনার অবকাশ এখন নেই। এখন দেশবাসী সরকারের পাশে সর্বতো ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বিরোধী দলগুলিও তার ব্যতিক্রম না। খড়্গে বলেন, “এই সংকটের মুহূর্তে আমরা সর্বতো ভাবে সরকারের পাশে আছি। সরকার যেটা ভাল মনে করবে, পাকিস্তানকে সবক শেখাতে সেটাই করা হোক।” বৈঠক শেষে রিজিজু জানান, “অভিযানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই দাবিও করেননি বিরোধী নেতৃত্ব। তবে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে খবর পাচ্ছি।” তাঁর স্পষ্ট ইঙ্গিত, পাকিস্তান কিছু করলে ভারতও চুপ করে বসে থাকবে না। সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা মিলে অপারেশান সিঁদুর শুরু করে। মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তানের ভিতরে একাধিক জঙ্গিঘাঁটিকে নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস করে ভারতের মিসাইল এবং বোমা। মৃত্যু হয় বহু জঙ্গির। ভারত শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে, এই হামলা ছিল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। ভারতের আকাশসীমার মধ্যে থেকেই চালান হয় অপারেশান সিঁদুর। একজন সাধারণ মানুষকেও নিশানা করা হয়নি। ভারতীয় মিসাইলের লক্ষ্য ছিল কেবলমাত্র জঙ্গিঘাঁটিগুলি। আর এই হামলায় দিশাহারা অবস্থা প্রতিবেশীর। কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাক গুলিবর্ষণের তীব্রটা রাতারাতি বেড়ে গিয়েছে বহুগুণ। শেলের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে একাধিক শিশু-সহ ১৫ জনের। নিহত হয়েছেন এক সেনাকর্মীও। সূত্রের খবর, পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে সেনা। পাকিস্তান না থামলে শুরু হবে অপারেশান সিঁদুরের দ্বিতীয় পর্ব। সর্বদল বৈঠকেও তারই ইঙ্গিত পাওয়া গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
