পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানার পাল্টা জবাবে এক ঐতিহাসিক অভিযানের সাক্ষী থাকল ভারত। মাত্র ২৫ মিনিটের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতীয় সেনা ধ্বংস করে দিয়েছে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি, নিকেশ করেছে ১০০-রও বেশি জঙ্গিকে, এমনই জানালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় বৈঠকে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন,”এটা শেষ নয়, অপারেশন সিঁদুর এখনও চলছে!”
ঘটনা বুধবার মাঝরাতে। পহেলগাঁওয়ে নিষ্ঠুর জঙ্গি হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দেয় ভারত। রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট এই অল্প সময়েই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানে ভারতীয় সেনা। বিস্ময়কর হলেও সত্য, মাত্র ২৫ মিনিটের এই আক্রমণেই জঙ্গি পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে যায়।
তবে সেনাবাহিনীর তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পাক সেনা ঘাঁটি বা সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করা হয়নি, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে কেবলমাত্র জঙ্গিদের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান,”ভারত শান্তি চায়, কিন্তু যদি পাকিস্তান সেনা উসকানি দেয়, তাহলে জবাব পাবে আগুনে।” তিনি আরও বলেন, “অপারেশন সিঁদুর চলমান। ভারত যুদ্ধ চায় না, কিন্তু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে।”
বৃহস্পতিবারের সর্বদলীয় বৈঠকে কেন্দ্রের পাশে দাঁড়াল সব বিরোধী দল। উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতারা। তাঁরা জানিয়ে দেন, “এখন প্রশ্ন তোলার সময় নয়, এখন দেশের পাশে থাকার সময়। কেন্দ্র যাই সিদ্ধান্ত নিক, আমরা একসঙ্গে আছি।” তবে কিছুটা খেদ প্রকাশ করে কংগ্রেস বলেছে, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বৈঠকে থাকলে আরও ভাল হতো।” তবুও সর্বসম্মত ভাবে সব দল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে TRF (The Resistance Front), পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন। ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও TRF ও পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার দাবি তুলেছেন বিরোধীরা। সর্বশেষে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন,”এটা এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। একসঙ্গে দেশ। রাজনীতি নয়, এখন একটাই কথা, ভারত সুরক্ষিত থাকুক।”
