২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে লস্কর-ই-তইবা’র জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাব দিতে এবার ভারত জবাব দিল আগ্রাসী ঢঙে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের এক দুর্ধর্ষ ও সুপরিকল্পিত সামরিক অভিযানে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান লক্ষ্য করে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে লস্করের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি। ভারতীয় সেনার সম্মিলিত তিন বাহিনী স্থল, নৌ ও বায়ুসেনা যৌথভাবে এই অপারেশন চালায়, যার নেতৃত্বে সরাসরি নজর রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সূত্রের খবর, এই অপারেশনের অন্যতম সাফল্য হলো লস্কর-ই-তইবা’র প্রধান সদর দফতরকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া। নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের যেসব ঘাঁটি থেকে ভারতে হামলার ছক কষা হচ্ছিল, সেগুলিকেই নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি ঘাঁটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এবং ৫টি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যে অবস্থিত ছিল।
এই ঐতিহাসিক অভিযানের পর বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী, ভারতীয় সেনার কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং বায়ুসেনার উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। প্রথমবারের মতো ভারতের দুই মহিলা উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিক এই ধরনের সাংবাদিক সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সামরিক পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন, যার ফলে দেশজুড়ে প্রশংসার ঝড় ওঠে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের বীর সেনানিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে একটি ব্যতিক্রমী ঘোষণা করেছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই দুই এয়ারলাইনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাত্রা করতে পারবেন। যাঁরা ইতিমধ্যে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত টিকিট বুক করেছেন, তাঁদের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলা হয়েছে, “জাতির নিরাপত্তায় যাঁরা আত্মনিবেদন করেছেন, তাঁদের সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ। তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা অশেষ।” প্রয়োজনে বিস্তারিত তথ্য ও সহায়তার জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে একটি হেল্পলাইন নম্বর ও বিশেষ ওয়েবলিঙ্কও প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ, বিশিষ্টজন ও প্রাক্তন সেনা আধিকারিকরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নারীর শক্তি এবং সেনাবাহিনীর সদা প্রস্তুত মনোভাবের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার দেশপ্রেমের বার্তাও এই ঘটনায় প্রতিফলিত হলো। ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখন শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, এটি হয়ে উঠেছে ভারতের আত্মরক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক।
