সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ভারতীয় সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী সদা-সতর্ক। তারই জ্বলন্ত প্রমাণ মিলল ফের একবার। এবার পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সেক্টরে এক পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে গুলি করে হত্যা করল বিএসএফ (BSF)। গভীর রাতে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় বিএসএফের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় ওই ব্যক্তি।
বিএসএফ সূত্রে খবর, রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এক পাকিস্তানি নাগরিক। বিএসএফ জওয়ানরা প্রথমে তাকে বারবার সতর্ক করেন। বহুবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি থামে না। এমনকি সে নির্দেশ অমান্য করে কাঁটাতারের কাছে চলে আসে। উপায় না দেখে শেষপর্যন্ত গুলি চালাতে বাধ্য হন জওয়ানরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই অনুপ্রবেশকারীর।
ঘটনাস্থল থেকে কিছু সন্দেহজনক জিনিসপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি হয়তো মাদক বা অস্ত্র পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পেরোতে চেয়েছিল। তবে সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বিএসএফ।
বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সুরক্ষা নিয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না। সীমান্তে যে বা যেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা করবে, তাকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। এমনকি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও বহুবার পাচারকারীরা একইভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়, কিন্তু সেখানেও বিএসএফের জওয়ানরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন।
পাঞ্জাব সীমান্ত বরাবর দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ ও পাচার রুখতে সক্রিয় রয়েছে বিএসএফ। এই ঘটনার পর আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল, সীমান্তের এক ইঞ্চিও নজরের বাইরে নয়। দেশের মাটিতে বেআইনি প্রবেশ রুখতে বিএসএফ সবসময় প্রস্তুত, এবং প্রয়োজনে তারা কড়া পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করে না।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল যে, ভারতের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীগুলি কতটা সজাগ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্ত পেরিয়ে কেউ যদি দেশের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে, তবে তাকে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না, এ যেন আরও একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বিএসএফ।
