সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কালোবাজারি করা হয় বা হোর্ডিং কর হয় তাহলে অভিযুক্ত বিক্রেতার সব জিনিস বাজেয়াপ্ত করবে রাজ্য সরকার। যুদ্ধের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাতে সাধারণ মানুষের নৃত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে না বিশ্বাস না উঠে সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যের ব্যবসায়ীদের করা হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের। বৃহস্পতিবার নবান্নে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামস্তর নিয়ন্ত্রণসহ কালোবাজারি রুখতে সংশ্লিষ্ট টাস্ক ফোর্স ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠন, মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও বিভাগীয় সচিবদের নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান ” পরিস্থিতি যাই হোক না কেন মানুষের অসুবিধা করে কোন বেআইনি কাজ হলে আমি কাউকে ছাড়বো না। কালোবাজারি হলে তার সমস্ত জিনিস বাজেয়াপ্ত করবে রাজ্য সরকার। এই সময়টা টাকা কমানোর সময নয়,দেশরক্ষার সময়। দেশের মানুষের পাশে থাকার সময়।”
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মূলত গত বছরের সঙ্গে এ বছরের দাম স্তরের তুলনা টানেন। আলু পেঁয়াজ আদা রসুন ছাড়াও মাছ ও মাংসের দাম স্তর কি ছিল এবং কি আছে তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে ” রাজ্য সরকার ঠিক সময়ে ঠিক পদক্ষেপ করায় এখনো পর্যন্ত রাজ্যের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম সাধ্যের মধ্যে রয়েছে।” যদিও মুরগির মাংস, আদা ও শসার দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন মমতা। গ্রাম বাংলায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হাঁসের পোল্ট্রি তৈরি করে দেয়া হয়েছে এবং হাঁসের মাংসের উৎপাদন বেড়েছে। সেক্ষেত্রে মুরগির মাংসের দাম যখন বেশি তখন রাজ্যের বাজার গুলিতে হাঁসের মাংস বিক্রি র চেষ্টা করা হচ্ছে না কেন তা নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? এমনকি মাছের দাম নিয়েও সন্তুষ্ট নন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে নিজস্ব উদ্যোগে মাছ উৎপাদন বেড়েছে। মাছের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তা সত্ত্বেও মাছের দাম পুরোপুরি গরীব মানুষের নাগালের মধ্যে কেন আনা যাচ্ছে না তাও জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। এবার থেকে মুরগির মাংস এবং মাছ সুফল বাংলায় বিক্রি করা হবে এ কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষ যাতে এই ধরনের খাবারের পুষ্টিগুণ সাধ্যের মধ্যে পান তার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান বর্তমানে রাজ্যের ৬৪৯ টি সুফল বাংলার স্থল রয়েছে। ভবিষ্যতে আরো আড়াইশো টি সুফল বাংলা স্টল বাড়াবে রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে কলকাতা থেকে জেলা সমস্ত স্থানীয় বাজারে এমনটি পুরসভার বাজার গুলিতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে বলে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নজরদারি চালাবে সংশ্লিষ্ট টাস্ক ফোর্স। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পুলিশের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। নিয়মিত বাজার গুলিতে রেড করা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মিত নজরদারি চালানো। টাস্ক ফোর্সকে এই কাজটি গুরুত্ব সহকারে করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “মাছে-ভাতে বাঙালি। বাঙালি খাদ্যরসিক এটা সবাই জানে। এ রাজ্যে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে তেমন কোন সমস্যা নেই। মাছ মাংসের দাম কমাতে হবে।
সাধারণ গরিব-মধ্যবিত্ত বাঙালির যাতে কোন ক্রাইসিস না হয় সেটা নজর রাখতে হবে।”
