দেশপ্রেমের আবেগ কখনও কখনও এমনভাবে রূপ নেয়, যা কল্পনাকেও হার মানায়। এমনই এক অনন্য উদাহরণ গড়ে তুলল বিহারের মুজফফরপুরের কেজরিওয়াল হাসপাতাল। সম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামক জঙ্গি বিরোধী অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে সফল প্রত্যাঘাতের দিন, সেখানে জন্ম নেয় এক ডজনেরও বেশি শিশু। আর আশ্চর্যজনকভাবে, সেই শিশুদের বেশিরভাগেরই নাম রাখা হয়েছে—‘সিঁদুর’!
এই ‘সিঁদুর’ শুধু একটি নাম নয়, এ এক গর্ব, এক বার্তা, এক প্রতিজ্ঞা। যার প্রতিটি অক্ষরে জড়িয়ে আছে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষার অটল সংকল্প। সন্তানের জন্মের সঙ্গে মিলিয়ে দেশবাসীর গর্বের দিনে খুশি দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে বহু পরিবারে। কেউ কন্যার নাম রেখেছেন ‘সিন্দুরি’, কেউ পুত্রের নাম রেখেছেন ‘সিঁদুর’, সবাই যেন একসুরে বলছেন, এই নাম তাদের সন্তানের জীবনে অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে উঠবে।
“আমাদের মেয়ের জন্মদিনের দিনই সেনারা শত্রুপক্ষকে কড়া জবাব দিয়েছিল। তাই তার নাম রেখেছি ‘সিন্দুরি’। প্রতি বছর এই দিন আমরা অপারেশন সিঁদুর উদযাপন করব।” জাফরপুরের পবন সোনি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেন,”আমরা চাই আমাদের ছেলে বড় হয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিক। ‘সিঁদুর’ শুধু নাম নয়, এটি দেশসেবার প্রতীক।”
হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক ডাঃ সিদ্ধার্থের কথায়,
“এটি অভূতপূর্ব। আগেকার দিনে সন্তানদের নামকরণ হত সিনেমার তারকাদের নামে, আজ তারা নাম রাখছেন দেশের বীরদের ও তাদের অভিযানের নামে। এটি বিহারবাসীর দেশপ্রেমের এক জীবন্ত নিদর্শন।”
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর দিন যে নতুন প্রাণগুলো এই পৃথিবীর আলো দেখেছে, তারা শুধু পরিবারের নয়, গোটা জাতির আশা, শক্তি এবং ভবিষ্যৎ। দেশ তাদের নাম জানল, ‘সিঁদুর’, ‘সিন্দুরি’, আর তারা দেশকে মনে করিয়ে দেবে, প্রতিটি প্রজন্মেই উঠে আসে এমন কিছু নাম, যারা শুধু পরিচয় নয়, এক গর্বের ইতিহাস হয়ে ওঠে।
