ভারতীয় অভিনয় জগতে নেমে এল গভীর শোক। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা, পরিচালক ও নাট্যসমালোচক মাধব ভাজে। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘শ্যামচি আই’-তে কিশোর শ্যামের চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় আজও বহু দর্শকের হৃদয়ে জীবন্ত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী ও পুত্র, অভিনেতা-পরিচালক অমিত ভাজেকে রেখে গেছেন।
১৯৩৯ সালের ২১শে অক্টোবর পুনেতে জন্ম মাধব ভাজের। পেশাগতভাবে ইংরেজির অধ্যাপক হলেও থিয়েটার ছিল তাঁর প্রাণ। ওয়াদিয়া কলেজ থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজেকে পুরোপুরি নাট্যচর্চায় নিয়োজিত করেন তিনি। মঞ্চ, চলচ্চিত্র, লেখালেখি—তিন ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন ভাজে।
থিয়েটার দুনিয়ায় তাঁর অবদান অসামান্য। রাজ্য থিয়েটার প্রতিযোগিতায় অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন বহু পুরস্কার। তিনি দেশি-বিদেশি নাট্যকারদের নাটক পরিচালনা করেছেন এবং গোয়া কলা অ্যাকাডেমির নাট্য বিভাগে অতিথি অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক থিয়েটার সমালোচক সংস্থার সদস্য ছিলেন তিনি এবং বিভিন্ন সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন।
২০১৩ সালে পরশুরাম দেশপাণ্ডে অনূদিত মারাঠি ‘হ্যামলেট’ তাঁর পরিচালনায় মঞ্চস্থ হয়। হিন্দি ও মারাঠি সিনেমাতেও তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছে—বিশেষ করে ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ এবং ‘বাপজন্ম’ ছবিতে তাঁর ভূমিকা দর্শকনন্দিত।
অভিনয় ও নির্দেশনার পাশাপাশি তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল সাহিত্যস্রষ্টা। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে:
‘Experimental Theatre: Three Acts’ (যা রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত),
‘রংমুদ্রা’ (নাট্য ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি),
‘শ্যামচি আই, আচার্য আত্রে অ্যান্ড মি’ (পুনে পৌর কর্পোরেশন পুরস্কারপ্রাপ্ত),
‘নন্দনবন’,
‘Parallel Theatre: Beyond and Within’ (যা মহারাষ্ট্র সাহিত্য পরিষদ এবং পুনে নগর বচন মন্দিরের প্রশংসা পায়)।
একজন সত্যিকারের শিল্পীর চলে যাওয়ায় থিয়েটার ও চলচ্চিত্র জগতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হবার নয়। মাধব ভাজের কাজ, চিন্তা ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের নাট্যচর্চার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
