ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে গোলাগুলি ও উত্তেজনা বাড়তে থাকায় দিল্লিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে।
দিল্লির সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “রাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।”
দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মী ছুটিতে যেতে পারবেন না।
নয়াদিল্লি ও পূর্ব দিল্লির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তারা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন, কোথাও কোনো দুর্বলতা থাকলে সেটিও চিহ্নিত করছেন।
গোটা দিল্লি শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ কমিশনাররা ১৫টি জেলার ডেপুটি কমিশনারদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন।
গত রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জম্মু ও কাশ্মীর থেকে শুরু করে পাঞ্জাব ও গুজরাটের বেশ কিছু শহরে হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে ভারতীয় বাহিনী তা প্রতিহত করে এবং পাকিস্তানের লাহোরে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে।
দিল্লির পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, “প্রতিটি থানার ডিসিপিরা মাঠে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এসিপি ও এসএইচওদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বাজার, মল, মেট্রো স্টেশন, হোটেল, আবাসিক এলাকা ও বিমানবন্দরে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পূর্ব দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অভিষেক ধনিয়া জানান, “ময়ূর বিহার ফেজ-১ মেট্রো স্টেশনে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা যাচাই করা হয়েছে। ৪১টি সিসিটিভি ক্যামেরা, সিআইএসএফ-এর পুরুষ ও মহিলা কর্মীরা নিয়মিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।”
এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল নাশকতা বিরোধী তল্লাশি চালাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির ডিসিপি সুরেন্দ্র চৌধুরী বলেন, “মল, বাজার ও হোটেলগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়েছে যাতে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”
সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে এবং দিল্লিতে প্রবেশকারী প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে।
উত্তেজনার এই সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার ও গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
