ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে টানটান উত্তেজনা। কখনও গুলির শব্দ, কখনও রাতের আঁধারে পাকিস্তানের পাঠানো ড্রোন আছড়ে পড়ছে সীমান্তবর্তী এলাকায়। ভারতীয় সেনা প্রতিরোধে অটল। এই পরিস্থিতিতে দেশের একাধিক রাজ্যে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট, কোথাও কোথাও ব্ল্যাকআউটও করা হচ্ছে নিরাপত্তার স্বার্থে। তবে এই সংকটময় পরিস্থিতির সুযোগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক ভুয়ো বার্তা। যার মধ্যে সবচেয়ে ভাইরাল হয়েছে—“আগামী ২-৩ দিন বন্ধ থাকবে এটিএম”।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার ছক কষছে। সেই কারণে অনলাইন লেনদেন বন্ধ রাখা উচিত, এমনকি এটিএম পরিষেবাও সাময়িক বন্ধ রাখা হবে। ফলে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ হুড়োহুড়ি করে ছুটছেন এটিএমে, তুলছেন টাকা, তৈরি করছেন সঞ্চয়। কোথাও কোথাও এটিএমের সামনে দেখা গেছে লম্বা লাইন।
তবে এই ভুয়ো খবরের প্রতিবাদে সরব হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটিএম বন্ধ রাখার কোনও পরিকল্পনা নেই, এবং সব পরিষেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে। সরকার এ-ও জানিয়েছে, এই ধরনের ভুয়ো বার্তা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যুদ্ধকালীন বা সংকটপূর্ণ সময়ে এমন গুজব দেশের ভিতরেই অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, সাইবার হামলার সম্ভাবনা থাকলেও, তার প্রতিরোধে ভারত ইতিমধ্যেই যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCI)—সব সংস্থাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনোরকম জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে তথ্য জানাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সরকার সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস না করে, সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বিভ্রান্তিমূলক তথ্য শুধু ব্যক্তিগত সঙ্কট নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের ভেতরেও অশান্তি ডেকে আনতে পারে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হল, আধুনিক যুদ্ধ শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে মনোজগতে, মোবাইল স্ক্রিনে, আর্থিক ব্যবস্থাতেও। তাই প্রতিরোধ শুধু সেনার নয়, সচেতনতার দায়িত্বও সাধারণ নাগরিকের।
