স্নিগ্ধা চৌধুরী
রাফালের গর্জনে আকাশ কাঁপিয়েছেন তিনি, এবার তাঁর দৃষ্টি মহাকাশে। ভারতের ‘আকাশনারী’ শিবাঙ্গী সিংহ— যিনি শুধু রাফাল যুদ্ধবিমান নয়, এখন স্বপ্ন দেখছেন নক্ষত্রেরও ঊর্ধ্বে যাওয়ার। ছোটবেলার জেদ, অদম্য পরিশ্রম আর একটা রূপকথার মতো উত্থান! এই গল্প যেন বাস্তবেও সিনেমার চেয়ে কম নয়।
বারাণসীর মেয়ে শিবাঙ্গী প্রথম স্বপ্ন দেখেন নয়াদিল্লির বিমানবাহিনীর জাদুঘরে দাঁড়িয়ে, যখন সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ভারতীয় বায়ুসেনার ইতিহাস। সেদিনই ঠিক করেছিলেন, আকাশে উড়বেন। তারপর বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২০১৬ সালে প্রবেশ করেন ভারতীয় বায়ুসেনায়।
তাঁর হাত ধরে ইতিহাস সৃষ্টি হয় , রাফাল চালানোর দায়িত্ব পান তিনিই প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে। মিগ-২১ বাইসন চালিয়ে রাজস্থানের ঘাঁটিতে দক্ষতা প্রমাণ করেন। অভিনন্দন বর্তমানের সঙ্গেও করেছেন গর্জনকারী উড়ান। ‘গোল্ডেন অ্যারোজ’ স্কোয়াড্রনে প্রথম নারী হিসাবে রাফাল চালিয়ে ছুঁয়েছেন গর্বের চূড়া।
তবে শিবাঙ্গীর আকাশযাত্রা সেখানে থামে না। তাঁর চোখে এখন নতুন নক্ষত্র মহাকাশ! তিনি আবেদন করেছেন টেস্ট পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য, ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে যাত্রী হওয়ার লক্ষ্যে। প্রজাতন্ত্র দিবসে বায়ুসেনার ট্যাবলোতে তাঁর উপস্থিতি ছিল ঠিক যেমন প্রতীকী! আকাশে নারীর উত্থানের।
শিবাঙ্গীর অনুপ্রেরণা তাঁর মা, যিনি চেয়েছিলেন, মেয়ে শুধু শিক্ষিত নয়, স্বাবলম্বী হোক, নিজের ডানায় ভর করে উড়ুক। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব।
আজকের শিবাঙ্গী শুধু এক জন পাইলট নন, তিনি লক্ষ লক্ষ মেয়ের সাহসের প্রতীক। তিনি প্রমাণ করেছেন স্বপ্ন দেখতে গেলে আকাশও সীমা নয়, তারও ওপারে জায়গা রয়েছে সাহসীদের।
