জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরিতে পাকিস্তান সেনার ছোড়া গোলায় প্রাণ গেল এক উচ্চপদস্থ সরকারি অফিসার, রাজকুমার থাপার। ভোরবেলা তাঁর বাড়িতে মর্টার এসে পড়ে। সঙ্গে ছিলেন আরও দুই সরকারি কর্মী, তাঁরাও গুরুতর আহত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে থাপাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে একটি বড় প্রেক্ষাপট। কয়েকদিন আগেই পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিরা হামলা চালায়। তার জবাবে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের একটি পাল্টা অভিযান চালায়, যেখানে অনেক সন্ত্রাসবাদীর ঘাঁটি ধ্বংস হয়। এরপর থেকেই পাকিস্তান সীমান্তে চুপিসারে গোলাবর্ষণ শুরু করেছে—সোজা কথায়, বদলা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
কিন্তু যুদ্ধ শুধু সেনাদের জন্য নয়—এই গোলাবর্ষণের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। থাপার মৃত্যুই তার বড় প্রমাণ। রাজৌরির আরও অনেক সাধারণ মানুষের বাড়ি-গাড়িও ভেঙে গেছে, জীবন এখন আতঙ্কে কাটছে। অনেকেই বলছেন, “ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ বিস্ফোরণ—ভয় পেয়েছিলাম খুব। এতটা নীচুতে নামতে পারে পাকিস্তান, ভাবিনি।”
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “একজন ভালো অফিসারকে হারালাম। তিনি শুধু অফিসার ছিলেন না, দায়িত্ববান একজন মানুষ ছিলেন।” তিনি আরও বলেন, এই সময় সবাই যেন বাড়িতে থাকেন, বাইরে না বেরোন।
এই ঘটনায় শুধু মন খারাপ হয় না, রাগও হয়। কারণ, পাকিস্তান জানে যে একজন সরকারি অফিসারের বাড়িতে হামলা মানে শুধু একজন মানুষকে মারার চেষ্টা নয়, পুরো সিস্টেমকেই ভয় দেখানোর চেষ্টা। অথচ ভারত সবসময় শান্তির পক্ষে। তবুও এমন হামলার জবাব তো দিতেই হবে।
এখন দরকার একসাথে চলা—সেনা, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ মিলে একটা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। কারণ এই লড়াই শুধু সীমান্তের নয়, এটা দেশের ভিতরে ভরসা রাখারও লড়াই। রাজকুমার থাপার মতো মানুষরা আমাদের দেশের জন্য কাজ করেন, তাঁদের সম্মান রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব।
