শান্তির কথা বলে হামলার পথ বেছে নিল পাকিস্তান! প্রাণ গেলো সাহসী সেনার!
স্নিগ্ধা চৌধুরী
ভারত যখন বিশ্বদরবারে শান্তির প্রতীক হয়ে যুদ্ধবিরতির বার্তা দেয়, তখন পাকিস্তান ফের প্রমাণ করল, তাদের অভিধানে ‘বিশ্বাস’ শব্দটি নেই। শনিবার বিকেল ৫টায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তিন ঘণ্টাও কাটেনি, সীমান্তে শুরু হয়ে গেল গুলির ঝড়, বিস্ফোরণের প্রতিধ্বনি। একদিকে শান্তির প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে পিঠে ছুরি! এটাই পাকিস্তানি কূটনীতির আসল চেহারা।
জম্মু-কাশ্মীরের অন্তত ১১টি সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের সেনা বাহিনী চালায় বেপরোয়া গুলিবর্ষণ। বিএসএফ-এর সাহসী অফিসার মহম্মদ ইমতিয়াজ শহিদ হন, গুরুতর আহত হন আরও সাতজন। শুধু গুলি নয়, ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানোরও চেষ্টা চলে, যার জেরে আতঙ্কে কেঁপে ওঠে উপত্যকা। একাধিক এলাকায় বাজে সাইরেন, রাতভর চলে ব্ল্যাকআউট।
এত বড় আক্রমণের পর একটা প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে! এই যুদ্ধবিরতির নাটক কেন? শান্তির মুখোশের আড়ালে কী লুকিয়ে রেখেছিল পাকিস্তান? আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে কেন হঠাৎ করে দু’দেশের সম্পর্ক মজবুত করার বার্তা দিল? ট্রাম্পের কূটনৈতিক ভাষণের আড়ালে কি আমেরিকার অস্ত্র-বাণিজ্য, অথবা এশিয়া মহাদেশে ক্ষমতা বিস্তারের গোপন চক্রান্ত লুকিয়ে আছে?
পাকিস্তানের এই দ্বিমুখী ভূমিকা নতুন নয়। অতীতেও তারা একইভাবে যুদ্ধবিরতির অঙ্গীকার করে, পরে আক্রমণ চালিয়ে গেছে। ভারতের মতো দেশ যেখানে শান্তির ভাষায় কথা বলে, সেখানে পাকিস্তান সেই সদিচ্ছাকে দুর্বলতা বলে ধরে নিয়ে যুদ্ধের রাস্তা বেছে নেয়। এটাই ‘অসভ্য কূটনীতির’ চরম নিদর্শন।
কুলগামের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে স্টেট ইনটেলিজেন্স এজেন্সির অভিযান। সীমান্তে আপাতত থমকে আছে গুলির শব্দ, কিন্তু ভারতের মনে গাঁথা হল নতুন এক প্রশ্ন! শান্তির বার্তা কি শুধুই একপক্ষীয় চেষ্টায় সফল হতে পারে?
ভারত যুদ্ধ চায় না। ভারত চায় সংলাপ, স্থিতি ও শান্তি। কিন্তু যদি প্রতিবারই শান্তির উত্তরে আসে বারুদের গন্ধ, তাহলে কী আদৌ কোনো চুক্তিই বিশ্বাসযোগ্য থাকে?
