ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক ব্যর্থ হামলার চেষ্টায় এবার নিজেরই সর্বনাশ ডেকে আনল পাকিস্তান। সাম্প্রতিক পহেলগাঁও হামলার পর দু’দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হলেও, শেষমেশ পাকিস্তানই সংঘর্ষ বিরতির আবেদন জানাতে বাধ্য হয়। কারণ? ভারতের শক্ত প্রতিরক্ষা বলয়ের সামনে দাঁড়াতে গিয়ে তুরস্ক থেকে আনা অত্যাধুনিক ড্রোনও শেষরক্ষা করতে পারেনি। শুধু তাই নয়, গোটা অপারেশনে পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক শুনলে চোখ কপালে ওঠার মতো।
জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পেছনের কয়েক সপ্তাহে ভারতের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ ও সামরিক অভিযানের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২১৩ কোটি টাকা খরচ করেছে পাকিস্তান। সব মিলিয়ে তাদের মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
এই বিপুল অর্থের মধ্যে রয়েছে তুরস্ক থেকে আনা ড্রোন, যুদ্ধ প্রস্তুতি, সীমান্তে সেনা মোতায়েন, র্যাডার ব্যবস্থা চালু রাখা সহ একাধিক খাতে ব্যয়। বিশেষ করে ভারতের উপর ড্রোন হামলার জন্য আলাদা করে আরও ৪৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩৯২১ কোটি টাকা খরচ করেছে পাকিস্তান।
তুরস্কের অত্যাধুনিক ড্রোন আনলেও ভারতের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির সামনে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পাকিস্তানের সব প্রচেষ্টা। ভারতীয় সেনার পাল্টা জবাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে পাকিস্তান। সেনা সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পাল্টা প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি, নিয়ন্ত্রণ রেখায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ সেনা পোস্টও কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
ভারতীয় সেনার কর্নেল সোফিয়া কুরেশি বলেন, “আকাশ হোক কিংবা স্থলপথ ভারতের সেনাবাহিনী সব দিক থেকেই পাকিস্তানকে ব্যর্থ করেছে। গত কয়েক দিনে পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় বড়সড় ফাটল ধরেছে। সেনার মনোবলও ভেঙে পড়েছে।”
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পাকিস্তানের অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে। এমনিতেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত দেশটির অর্থনীতি এখন ‘কাঙাল’ দশায়। তার উপর, এই বিপুল অর্থের ক্ষতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ঘরে খাদ্যাভাব, বিদেশি ঋণ শোধে অক্ষমতা, আর বাইরে যুদ্ধের ব্যর্থ খরচ, সব মিলিয়ে পাকিস্তান এখন এক চূড়ান্ত দেউলিয়া অবস্থার সামনে দাঁড়িয়ে।
যে দেশ নিজের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা দিতেই হিমশিম খাচ্ছে, সেই দেশ যখন সামরিক আগ্রাসনে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, তখন তার পরিণতি এমনই হওয়া স্বাভাবিক। ভারতের প্রতি ‘অন্তহীন ষড়যন্ত্রের’ খেসারত এখন পাকিস্তানকেই দিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে, অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে, সামরিকভাবে ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তানের সামনে এখন একটাই পথ, আর সেটা হলো সংযম এবং শান্তি।
