আইপিএলের বাকি ১৭টি ম্যাচ হবে ৬ শহরে। জানিয়েছে বিসিসিআই।প্লে-অফ নিয়েই ১৭টি ম্যাচ বাকি। যাতে নেই কলকাতার নাম। কলকাতায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার আর ফাইনাল হবে বলে আগে নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সংশোধিত সূচি প্রকাশের সময় প্লে-অফ কোথায় হবে তা অবশ্য জানায়নি বিসিসিআই।
শোনা যাচ্ছে, বৃষ্টির পূর্বাভাসের জন্যেই নাকি কলকাতা থেকে ম্যাচ সরানোর ভাবনা। আমেদাবাদে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও ফাইনাল করার পরিকল্পনা। মুম্বইয়ে প্রথম কোয়ালিফায়ার ও এলিমিনেটর। তাতে নাকি সম্প্রচারের ব্যবস্থাপনাতেও সুবিধা হবে।
যদিও এই ধরনের ভাবনা যুক্তিসঙ্গত নয়। এটা ঠিক, বর্ষা এবার আগে ঢুকেছে। কেরলে আসার কথা চলতি মাসের ২৭ তারিখ। পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে আরও কিছুদিন লাগে। মে মাসের শেষ সপ্তাহে যেমন রাজ্যে বর্ষা ঢোকার নজির আছে, তেমনভাবেই বর্ষা বাংলায় এসেছে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহেও। তেমন নজির সংখ্যায় বেশি। আবার বর্ষা দেশে ঢুকেও থমকেও থাকে, শুরুতেই মারকাটারি ব্যাটিং করে তা নয়। বর্ষার সেই টানা অবিরাম বর্ষণ আর কোথায়?
আইপিএল ফাইনাল আছে ৩ জুন। রিজার্ভ ডে থাকে ফাইনালে, ফলে ৪ জুন। আইপিএল ফাইনাল রিজার্ভ ডে-র রাত অবধি গড়িয়েছে সেই নজির আছে আমেদাবাদেই। সেই বৃষ্টির কারণেই। অনেকের যুক্তি, জুনের গোড়ায় সেভাবে বৃষ্টি হয় না আমেদাবাদে। কিন্তু ভুলে যাবেন না, ২০২৩ সালের আইপিএল ফাইনাল চলেছিল ২৮ ও ২৯ মে। মধ্যরাত পেরিয়েও দ্বিতীয় ইনিংস হয়েছিল ১৫ ওভারের। পুরো ২০ ওভারের ম্যাচ হয়নি। সিএসকে জিতেছিল ডিএলএস মেথডে। আসলে আমেদাবাদে যা নেই, তা আছে ইডেনে। দেশে যা দৃষ্টান্ত। যা হয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত ভাবনা থেকেই। ইডেনের মাঠ ঢেকে রাখা যায়। বৃষ্টি থামলে আধ ঘণ্টার মধ্যে খেলা শুরু করা যায়।
এই আবহে বৃষ্টির কথা ভেবে কলকাতা থেকে ম্যাচ সরানো হবে গর্হিত অন্যায়। কারণ, গতবার কেকেআর জেতায় ইডেন ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব অর্জন করেছে। সেটা কেন কাড়া হবে? কেন সরানো হবে? ইডেনে ফাইনাল হলে বিপুল সংখ্যক দর্শক মাঠে থাকবেন তা নিয়ে সংশয় নেই। মুম্বইয়ে কিছুদিন ভালো বৃষ্টি হয়েছে। আকাশ থাকছে মেঘাচ্ছন্ন। তারপরেও কলকাতাকে ব্রাত্য রেখে মুম্বই। বিসিসিআই নাকি মৌসুমী বায়ুর গতিপ্রকৃতি দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এমনকী মুম্বইয়ে করা না গেলে দিল্লি, জয়পুর বা লখনউয়ে প্লে-অফের প্রথম দুটি ম্যাচ ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সিএবি কিন্তু চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে কলকাতা বঞ্চনার শিকার না হয়। কারণ, এত আগে বলাও যায় না আবহাওয়া কেমন থাকবে। ২৫ তারিখ ফাইনাল হলেও তো বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। তবে? সিএবির চেষ্টার সঙ্গেই সদর্থক ভূমিকায় সকলে দেখতে চাইছেন অভিষেক ডালমিয়াকে। তিনি আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য। তিনিও ঠেকানোর চেষ্টা করুন কলকাতা থেকে অহেতুক ম্যাচ সরানোর ভাবনা। এখনকার বর্ষা বা প্রাক বর্ষার বৃষ্টি ইডেনে রিজার্ভ ডে থাকা ফাইনাল আয়োজনের পথে অন্তরায় যে হবে না, সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। কিন্তু যদি একান্তই ফাইনাল আমেদাবাদে সরে, তাহলে প্রথম কোয়ালিফায়ার ও এলিমিনেটর পেতে যুক্তিবাণ সাজিয়েই জোরালো সওয়াল করতে প্রস্তুত সিএবি।
