সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই শিল্প ক্ষেত্র যথেষ্ট সম্ভাবনাময় বলে কেন্দ্রীয় রিপোর্ট একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে রাজ্য সরকার যে ফলাও করে লগ্নী প্রস্তাবের প্রচার করেছিলেন সে তুলনায় ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্প ক্ষেত্রের ভাঁড়ার ভরেছে সামান্যই। বাণিজ্য সম্মেলন শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন রাজ্যে ৪.৪০ লক্ষ কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এই মোট লগ্নী প্রস্তাবের মধ্যে ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্পের ক্ষেত্রে তার অংক দাঁড়িয়েছে ৮৭০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট লগ্নী প্রস্তাবের প্রায় মাত্র ২ শতাংশ। অংকের বিচারে লগ্নির পরিমাণ দৃশ্যতই কম।
তবে বাণিজ্য সম্মেলনের লগ্নী প্রস্তাব অনুযায়ী রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে লগ্নীর পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তা সুদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্প দপ্তর। এই ধরনের শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের থেকে কর্মসংস্থানের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি বলেই দাবি দপ্তরের কর্তাদের। আর কর্মসংস্থানের নিরিখে এই লগ্নী প্রস্তাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্প দপ্তর।
ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্প দপ্তরের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বিশ্ব বাণিজ্য বঙ্গ সম্মেলনে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে লগ্নী প্রস্তাব মিলেছে—-
১) বস্ত্র শিল্পে ৭০০ থেকে ৭৫০ কোটি
২) ১৩ টি প্লাস্টিক প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার কোটি
৩) চন্ডীতলায় ৩০০ কোটি টাকায় লজিস্টিক পার্ক
৪) হাওড়ার রাবার পার্কে ১০০ কোটি
৫) বানতলা চর্মনগরীতে ৫৫০ কোটি
৬) ৬টি বেসরকারি শিল্পতালুকে ৮৪০ কোটি
৭) খড়্গপুরে ১৫৫০ কোটি টাকায় নতুন রং কারখানা
৮) প্রয়াগ পলিমারে ২৬০ কোটি টাকা
৯) আউসগ্রামে ২০০ কোটি টাকায় ইথানাল পার্ক
১০) নদিয়ায় অত্যাধুনিক শাড়ি প্রিন্টিং ইউনিটে ১০ কোটি
১১) বাদুতে জুতোর শুকতলা তৈরির প্রকল্পে ৩০ কোটি
বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন শেষে রাজ্য সরকার প্রচারিত বিনিয়োগের তুলনায় ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ যে আশাপ্রদ নয় তা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে দপ্তরের একাংশের। যদিও ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্প মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা দাবি করেছেন, এই ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যে যুব সমাজের জন্য ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্প ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে তা ভবিষ্যতে নতুন দিগন্ত এনে দেবে বলেও আশা চন্দ্রনাথ সিনহার। দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ২০২৩ সালে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে এই শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১১৪০ কোটি টাকা। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় ২৫ হাজার। চলতি বছরের বিনিয়োগ প্রস্তাবের জেরে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে প্রায় ৬৮ হাজার। শুধু বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন নয় তার আগের দুটি সিনার্জিতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছিল এই ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্প ক্ষেত্রে বলেও জানিয়েছেন পদস্থ কর্তারা। ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্পক্ষেত্রের বিনিয়োগ যে খুব বেশি হয় না সে কথাও মানছেন এই ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংগঠনও। বিশেষ করে গত বিশ্ব বাণিজ্য বঙ্গ সম্মেলনে যে বিপুল লগ্নীর কথা রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে তার তুলনায় এই শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রস্তাব আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তারা। তবে শুধুমাত্র লগ্নি বা বিনিয়োগ দিয়ে নয় ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষেত্রকে কর্মসংস্থানের নিরিখে বিচার করা অধিক যুক্তিযুক্ত বলেও মনে করেন সংগঠনের কর্তারা।
