যুদ্ধ থামাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ডাকে সাড়া দিলেন না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার ইস্তানবুলের শান্তি আলোচনায় পুতিন যে থাকবেন না তা ক্রেমলিনের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে প্রেসিডেন্টের সহকারী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি এই শান্তি আলোচনায় রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।প্রশ্ন উঠছে এখন কী করবেন ভলোদিমির জেলেনস্কি?
রবিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানান, কোনও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নয় সরাসরি ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী রাশিয়া। আর সেটাই নাটকীয় মোড় নেয় যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরাসরি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব গ্রহণ করে ঘোষণা করে বলেন যে তিনি বৃহস্পতিবার তুরস্কে গিয়ে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। যদিও এই মুখোমুখি বা সরাসরি আলোচনার জন্য একটি শর্তও চাপানো হয়। ইউক্রেন এবং তার ইউরোপীয় বন্ধু দেশগুলো ৩০ দিনের জন্য একটি যুদ্ধবিরতির দাবি জানায়।যাকে কিয়েভ ও মস্কোর সরাসরি শান্তি আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। আর এই পূর্বশর্ত না মানলে ইউরোপীয় নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, রাশিয়া তাদের অবস্থান না বদলালে সঙ্গে সঙ্গেই নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
যদিও সোমবার মস্কো ইউরোপের এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছে যে রাশিয়া কোনও চাপ মানবে না। তিনি আরও বলেন, মস্কো “গভীরতর ও বাস্তবসম্মত আলোচনার” মাধ্যমে সংঘাতের অবসান চায়, যা ইতিমধ্যে হাজার হাজার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তথ্য বলছে পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে শেষ সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। আর ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর কিছুদিন পর ইস্তানবুলে শেষবার সরাসরি আলোচনায় বসেছিল রাশিয়া ও ইউক্রেন।২০২২ সালে মস্কোর আগ্রাসনের পর এটিই হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেনের প্রথম সরাসরি শান্তি আলোচনা। তাই এই আলোচনাকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাম্পের দেশ।এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।বর্তমানে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপও রয়েছে।
তবে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সেদেশের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।তবে বিশ্ববাসীর নজর রয়েছে ইস্তাম্বুলের দিকে। অনেকেই পুতিন ও জেলেনস্কির সম্ভাব্য সামনাসামনি বৈঠকের দিকে আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন। কিন্তু ক্রেমলিন জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলে বৃহস্পতিবারের আলোচনায় রাশিয়ার নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সহযোগী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি।তবে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি মস্কো।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
