ভাবা যায়? বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত জঙ্গি নেতার অন্যতম প্রিয় গায়িকা ছিলেন ভারতের মধুর কণ্ঠের জাদুকরী অলকা ইয়াগনিক! আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন ছিলেন বলিউডের এই বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীর অন্ধ ভক্ত। আর এতদিন পর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিস্ময়কর তথ্য সামনে এলে স্বভাবতই আলোড়ন পড়ে যায়। হলও তাই!
২০১১ সালে সিআইএ যখন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লাদেনের লুকিয়ে থাকা বাড়িতে হানা দেয়, তখন তার ব্যক্তিগত কম্পিউটার ঘেঁটে বেরিয়ে আসে একরাশ চমকপ্রদ তথ্য। সেই কম্পিউটারে ছিল একের পর এক হিন্দি সিনেমার গান উদিত নারায়ণ, কুমার শানু এবং বিশেষভাবে অলকা ইয়াগনিকের ১০০টিরও বেশি গানের সংগ্রহ! এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অলকা ইয়াগনিকের জবাব আরও বিস্ময়কর। তিনি অকপটভাবে বলেন,”এটা কি আমার দোষ? উনি যেমনই হোন না কেন, নিশ্চয়ই তাঁর মধ্যে কোথাও একটা শিল্পীসত্ত্বা ছিল। আমার গান যদি কারও ভালো লাগে, তাতে দোষ কী?”
গায়িকা আরও বলেন, “ভক্ত কে হবেন, সেটা ভেবে শিল্পচর্চা করা যায় না। আমি গান গাই মন দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, কে শুনছেন সেটা তো আর আগে থেকে জানার উপায় নেই।” লাদেনের কম্পিউটারে পাওয়া আরও কিছু গান ছিল ‘আজনবী মুঝকো এতনা বাতা’ (পেয়ার তো হোনা হি থা), ‘দিল তেরা আশিক’, এবং ‘তু চাঁদ হ্যায় পূর্ণিমা কা’। ভাবা যায়, এই সুরের জগৎ কতটা শক্তিশালী, যা কিনা এক ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদীর হৃদয়েও দোলা দিতে পারে!
এই একই সাক্ষাৎকারে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতিকেও তীব্র কটাক্ষ করেন অলকা ইয়াগনিক। জানান,“অনেক গান আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একজন সহকর্মী আমার সঙ্গে খুব নোংরা রাজনীতি করেছেন।” তিনি বলেন, “আমি গান গেয়ে মহড়া দিয়েছিলাম, পরে দেখি অন্য একজন প্রবীণ গায়িকা সেই গান গেয়েছেন। তবে এসব নিয়ে আমি কখনও নিজেকে বিষিয়ে তুলি নি। আমি বরং পরিবারকেন্দ্রিক ছিলাম, গানটাই ছিল আমার আসল ভরসা।”
অলকার এই সাহসী ও স্পষ্টভাষী বক্তব্যে ফের একবার প্রমাণ হয়ে গেল, তিনি শুধু গানের মঞ্চেই নন, বাস্তব জীবনেও একজন অনন্যা। আর তাঁর গানে যে জাদু আছে, তা যে লাদেনের মতো চরিত্রকেও টেনে নিতে পারে, সেটাই তো প্রমাণ করে দেয় সংগীতের কোনও সীমানা নেই!
