সুন্দরী ভ্লগারের ছদ্মবেশে পহেলগাম ঘুরে এসেছিলেন জ্যোতি মালহোত্রা। ক’দিন বাদেই সেখানে ঘটে যায় জঙ্গি হামলার ঘটনা। তার জবাব দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’ দিয়ে। সেই সংঘর্ষ আপাতত স্থগিত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বেচাল দেখলেই আবার শুরু হবে অপারেশন। এই আবহে দেশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পাক গুপ্তচরদের ধরপাকড় শুরু।
এখনও পর্যন্ত দেশ জুড়ে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিনটি রাজ্য থেকে আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত যা খবর, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চার জনই হরিয়ানা থেকে। তিন জন পঞ্জাব এবং একজন উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা।
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একজন ট্রাভেল ভ্লগারকে গ্রেপ্তারের পর, হিসার পুলিশ সতর্ক করে দিয়েছিল, শত্রু দেশগুলির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন ভারতের তরুণ ইনফ্লুয়েন্সাররা। শুধুমাত্র টাকার লোভে ইনফ্লুয়েন্সাররা ভুল পথে পা বাড়ান। একথা সাংবাদিকদের জানান হিসারের এসপি শশাঙ্ককুমার সাওয়ান।
এ বার জেনে নিন, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত থেকে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার হওয়া আট গুপ্তচরের নাম-পরিচয়। ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে দেশের তথ্য শত্রু দেশে পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
জ্যোতি মালহোত্রা: ‘ট্র্যাভেল উইথ জেও’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলের জনপ্রিয় ট্র্যাভেল ভ্লগার জ্যোতি। হরিয়ানার হিসারের বাসিন্দা। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সামরিক তথ্য শেয়ার করার জন্য গত সপ্তাহে গ্রেফতার করা করা হয় তাকে। ৩৩ বছর বয়সী এই তরুণী পাকিস্তান হাই কমিশনের একজন কর্তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, কমপক্ষে দু’বার পাকিস্তান সফর করেন বলেও পুলিশ সূত্রে খবর।
দেবেন্দ্র সিংহ: পাতিয়ালার খালসা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ২৫ বছর বয়সী দেবেন্দ্র সিংহ ধিলন। ফেসবুকে পিস্তল এবং বন্দুকের ছবি আপলোড করার জন্য গত ১২ মে হরিয়ানার কৈথাল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত নভেম্বরে পাকিস্তানে যায় সে এবং আইএসআই-এর কর্তাদের এ দেশের সংবেদনশীল তথ্য তুলে দেয়। তথ্যের মধ্যে ছিল পাতিয়ালা সেনা ছাউনির ছবিও।
নওমান ইলাহি: হরিয়ানায় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করত ২৪ বছর বয়সী নওমান ইলাহি। কয়েক দিন আগে পানিপথ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, নওমান পাকিস্তানে এক আইএসআই হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, ইসলামাবাদে তথ্য সরবরাহের জন্য পাকিস্তান থেকে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা তার শ্যালকের অ্যাকাউন্টে টাকা আসত।
আরমান: গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ মে হরিয়ানার নুহ থেকে ২৩ বছর বয়সী আরমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, তাকে পাকিস্তানে সংবেদনশীল তথ্য পাচার করতে দেখা গেছে। আর এহেন দাবির সমর্থনে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে পুলিশের হাতে। ওই সন্দেহভাজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শাহজাদ: উত্তরপ্রদেশের রামপুরের ব্যবসায়ী শাহজাদকে রবিবার মোরাদাবাদ থেকে গ্রেফতার করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। সে জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য হ্যান্ডলারদের মাধ্যমে পাকিস্তানে পৌঁছে দিত। একাধিকবার পাকিস্তান যাওয়ার রেকর্ডও রয়েছে তার নামে। প্রসাধনী, পোশাক এবং মশলা পাচারের সঙ্গেও অভিযুক্ত জড়িত বলে খবর।
মহম্মদ মুর্তজা আলি: জলন্ধরে অভিযান চালিয়ে মহম্মদ মুর্তজা আলিকে গ্রেফতার করে গুজরাত পুলিশ। পাকিস্তানের আইএসআইয়ের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছিল ওই সন্দেহভাজন। সূত্রের খবর, নিজের তৈরি একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই চক্র চালাত আলি। তার কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন এবং তিনটি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও, একই অভিযোগে পঞ্জাব থেকে গাজালা এবং ইয়ামিন মহম্মদ নামে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ দিকে, বাংলা থেকে দুই সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম আজমল হোসেন এবং সাহেব আলি খান। আজমলের বাড়ি নলহাটির চণ্ডীপুর গ্রামে। সাহেবের বাড়ি বীরভূমের মুরারই থানা এলাকার রুদ্রনগর গ্রামে। ১০ মে রাতে তল্লাশি চালিয়ে ওই দু’জনকে পাকড়াও করেন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ধৃতেরা জিহাদি মতাদর্শ প্রচারের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ এবং বিস্ফোরক প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করেছিল।
