ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জবাব দিতে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে হামলার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান! টার্গেটে ছিল, আরও একাধিক শহর। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ন’টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। আর ভারতের সেই হামলার ‘প্রতিশোধ’ নিতে পাকিস্তান গত ৭-৮ মে মধ্যরাতে ড্রোন এবং মিসাইল দিয়ে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে হামলার চেষ্টা করে। কিন্তু ভারতের অত্যাধুনিক ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে’র কাছে তা মুখ থুবড়ে পড়ে। আঁচও লাগেনি কোথাও।
সোমবার অমৃতসরে সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তান থেকে ছোঁড়া ড্রোন এবং মিসাইল কী ভাবে ঠেকায় ভারত, তার ভিডিয়ো দেখায় সেনা বাহিনী। পাকিস্তানের ড্রোন এবং মিসাইলের ধ্বংসাবশেষও সেখানে দেখানো হয়। এল- ৭০ এয়ার ডিফেন্স গান এবং আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কী ভাবে স্বর্ণমন্দিরে পাক হামলার ছক ভেস্তে দেয়, তা-ও দেখায় সেনা।
১৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল কার্তিক সি শেষাদ্রি বলেন, “সাম্প্রতিক হামলার সময় স্বর্ণমন্দির সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। পাক সেনাবাহিনীর যে কোনও বৈধ লক্ষ্যবস্তু নেই, তা আমরা জানতাম। সেই থেকে আমাদের ধারণা ছিল, তারা ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি এবং ধর্মীয় স্থান-সহ অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবে। এর মধ্যে স্বর্ণমন্দিরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বর্ণমন্দিরকে একটি সামগ্রিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা দেওয়ার জন্য আমরা অতিরিক্ত আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করি।”
৮ মে ভোর থেকে শুরু হওয়া ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেন মেজর জেনারেল শেষাদ্রি। তাঁর কথায়,”পাকিস্তান মূলত ড্রোন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মনুষ্যবিহীন বিমান হামলা চালিয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম, কারণ বিষয়টা আগে থেকেই অনুমান করেছিলাম। আমাদের সদা সতর্ক সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা স্বর্ণমন্দিরকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান থেকে ছোঁড়া সমস্ত ড্রোন এবং মিসাইল ধ্বংস করেছে। এ ভাবে, আমাদের পবিত্র স্বর্ণমন্দিরে একটি আঁচড়ও পড়তে দেননি তাঁরা।”
ভারতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে’র কাছে মুখ থুবড়ে পড়া কামিকাজি ড্রোন এবং তুরস্কে তৈরি মাইক্রো-ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দেখিয়েছে সেনা। অভিযানের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক সেনা অফিসার বলেছেন, “স্থলভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র এবং সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মাত্র ১০ শতাংশ গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে… আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা প্রাচীর ভাঙা খুবই কঠিন।”
