পাঠ্যবই জাল করে কোটি টাকার ‘নকলনামা’ চালাচ্ছিলেন বাবা-ছেলে। এনসিআরটি-র বই নকল করে বাজারে বিক্রি করে প্রায় ২.৪ কোটি টাকা রোজগার করে ফেলেছিলেন তারা! দিল্লি পুলিশের হাতে ধরা পড়ল এই জালিয়াত চক্রের মূলচালক প্রশান্ত গুপ্তা (৪৮) এবং তাঁর ছেলে নিশান্ত গুপ্তা (২৬)।
১৬ মে, দিল্লির শাহদরার মাণ্ডোলি রোডে একটি দোকানে এনসিআরটি-র নকল বই বিক্রির খবর পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। দোকানে হানা দিয়েই হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় দুজন। তদন্তে উঠে আসে, হিরাঙ্কি এলাকার একটি গোডাউনে রয়েছে আরও বিপুল পরিমাণ বই। সেখানে হানা দিয়েই বাজেয়াপ্ত হয় প্রায় ১.৬ লক্ষ জাল বই। গোটা ঘটনায় উদ্ধার বইয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ১.৭ লক্ষ।
পুলিশ সূত্রে খবর, নকল দ্বাদশ শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ের পাতায় ছিল নকল স্বাক্ষর, মিথ্যে প্রাইস ট্যাগ। এনসিআরটি-র কর্তৃপক্ষ বইগুলো পরীক্ষা করে জানায়, সবই ভুয়ো। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পাঠ্যবইয়ের ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন প্রশান্ত, পাঁচ বছর আগে যোগ দেয় তাঁর ছেলে নিশান্ত। মুনাফার লোভেই তারা নকল বইয়ের পথে হাঁটে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩১৮ ধারা এবং কপিরাইট আইনের ৬৩-৬৫ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, এই জালিয়াতিতে শুধু বাবা-ছেলে নন, জড়িত ছিল ছাপাখানা, পরিবহণ সংস্থা, পাইকারি ডিলার থেকে খুচরো বিক্রেতা সবাই।
দিল্লি পুলিশ জানায়, এই চক্র ভাঙতে আরও নজরদারি ও পরিকাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাঠ্যবই বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনতে বিশেষ টাস্ক ফোর্সও তৈরি করা হবে।
এনসিআরটি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে জালিয়াতি শুধুই আইনের অবমাননা নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। তাই প্রশাসন জানায়, এমন অপরাধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে।
