বাহারিন সফরে গিয়ে পাকিস্তানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন এআইএমআইএম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় পদক্ষেপের আহ্বান জানালেন।
রবিবার বাহারিন সফরে গিয়ে এক আলোচনাসভায় পাকিস্তানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে আখ্যা দিলেন এআইএমআইএম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী ও পরিমিত বলে ব্যাখ্যা করেন। বিজেপি সাংসদ বৈজয়ন্ত পাণ্ডার নেতৃত্বে গঠিত সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলে ওয়াইসিও ছিলেন, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদ ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার সময় ওয়াইসি বলেন, পাকিস্তানের মত ব্যর্থ রাষ্ট্র থেকে আসা যেকোনো আগ্রাসন আমাদের সরকার, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে রুখে দিচ্ছে। আমাদের সরকার নাগরিকদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যদি পাকিস্তান আবার এমন কিছু করে, তাহলে জবাব আরও কঠোর হবে।
ওয়াইসি তার বক্তব্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন। তিনি বাহারিন সরকারের কাছে আবেদন জানান, তারা যেন পাকিস্তানকে আবার এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উদ্যোগী হয়। কারণ, পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এখনো সক্রিয় এবং এই সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। ওয়াইসি বলেন, এই টাকা সন্ত্রাসে কাজে লাগানো হচ্ছে। এটা শুধু ভারতের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের উৎসস্থল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের অখণ্ডতা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। পাকিস্তানকে এখন এটা বুঝে নিতে হবে। পহেলগাঁওতে গত মাসে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ তুলে ওয়াইসি বলেন, এটি নিছক এক হামলা নয়, এক মানবিক বিপর্যয়। ছ’দিন আগে বিয়ে করা এক নারী আজ বিধবা। দুই মাস আগে বিয়ে করা এক মহিলাও তার স্বামীকে হারিয়েছেন। এই রকম হারানো আর চলতে পারে না।
এই সফরের সময় প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিজেপির নিশিকান্ত দুবে, ফাংনোন কোন্যাক, রেখা শর্মা, এআইএমআইএম-এর ওয়াইসি, সৎনাম সিং সান্ধু, গুলাম নবি আজাদ এবং বাহারিনে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষ শ্রিংলা। পুরো সফর এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি বার্তা স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে যে, ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ওয়াইসির বক্তব্যে দেখা গেছে, দেশের স্বার্থে সমস্ত রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সকলে একসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের অবস্থান মজবুত করতে প্রস্তুত।
