পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জেলবন্দি জ্যোতি মালহোত্রা। আদালতের নির্দেশে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে তাঁকে। হরিয়ানার হিসার জেলে জ্যোতির সঙ্গে দেখা করলেন তাঁর বাবা হরিশ মালহোত্রা। সূত্রের খবর, মামলায় নিজেকে বেকসুর বলে দাবি করেছেন জ্যোতি। আদালতেও সে কথা জানিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানালেন জ্যোতির বাবা।
হরিয়ানার হিসারে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ২ নম্বর জেলে রাখা হয়েছে জ্যোতিকে। বুধবার ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের প্রথম দিন ছিল। তবে এর আগে চার দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জ্যোতিকে। মঙ্গলবারই সেই হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়। এদিন জ্যোতির সঙ্গে দেখা করে বাইরে সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর বাবা হরিশ মালহোত্রা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বছর তেত্রিশের ইউটিউবারকে গ্রেফতার করা হয়। পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে সরাসরি জ্যোতির যোগাযোগ ছিল বলে দাবি। ভারতের বিষয়ে গোপন তথ্য় পাকিস্তানে সে পাচার করে দিত বলে অভিযোগ। তবে এর আগে হেফাজতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে জ্যোতির জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগের প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি পুলিশ সুপার শশাঙ্ক কুমার সাওয়ানের। এমনকি, প্রতিরক্ষা ও সামরিক বিষয়েও কোনও গোপন তথ্য জ্যোতির কাছে আসত কি না, তাও স্পষ্ট নয়।
তবে জ্যোতির সঙ্গে পাক গুপ্তচরদের যে যোগাযোগ ছিল, তা স্বীকার করেছেন পুলিশ সুপারও। একাধিক রিপোর্টে দাবি, ফরেনসিক তদন্তে জানা গিয়েছে অন্ততপক্ষে চারজন পাক গুপ্তচরের সঙ্গে জ্যোতির যোগাযোগ ছিল। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন জ্যোতির চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও। ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে সন্দেহজনক কোনও লেনদেন হয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে গত তিন সপ্তাহে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যেই অন্যতম হরিয়ানার ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা। গোটা উত্তর ভারত জুড়ে এমন গুপ্তচরদের নেটওয়ার্ক থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তদন্তকারীদের।
