পহেলগামে জঙ্গি হামলার পরেই পাকিস্তানের মাটিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায় ভারত! একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। আর এই অভিযানের পর চার দিন ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষমেষ সংঘর্ষ বিরতি চেয়ে নয়াদিল্লির শরণ নেয় ইসলামাবাদ। কিন্তু গত ১০ মে কেন পাকসেনা সংঘর্ষবিরতি চেয়ে ভারতের দ্বারস্থ হল? এই বিষয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
সম্প্রতি মার্কিন এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। যেখানে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে যথারীতি তুলোধোনা করেছেন। একই সঙ্গে গত ১০ তারিখ কেন সংঘর্ষবিরতি চেয়ে ভারতের দ্বারস্থ হল পাকিস্তান, তা নিয়েও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন জয়শঙ্কর। তাঁর কথায়, গত ১০ মে সকালে পাক বায়ুসেনার আটটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিকে টার্গেট করে ভারত ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন ওই সংবাদমাধ্যমকে বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, “আমার কথা ধ্রুব সত্যি বলে মেনে নেওয়ার দরকার নেই। প্রমাণ দেখতে গুগল করে নিজের চোখে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।” জয়শঙ্করের কথায়, সমস্ত ছবি গুগলে রয়েছে। যেখানে স্পষ্ট যে পাক বিমানবাহিনীর রানওয়ে এবং হ্যাঙ্গারে ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে। অন্য দিকে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ক্ষতি হওয়ার বিষয়টিও ওই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। সেক্ষেত্রে বিদেশমন্ত্রীর জবাব, “পাকিস্তানের এয়ার ফিল্ডগুলোর বর্তমান অবস্থাই বলে দিচ্ছে রাফাল কী কাজ করেছে।”
বলে রাখা প্রয়োজন, সিঙ্গাপুরের মাটিতে বসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ রাফাল ভেঙে পড়ার বিষয়টি কার্যত মেনে নিয়েছিলেন। তবে সংখ্যার বিষয়ে স্পষ্ট করেননি। কার্যত বিদেশমন্ত্রীও সুকৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন বলে মনে করা হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তোপ দেগে জয়শঙ্কর বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদীরা কোথায় লুকিয়ে আছে তাতে কিছু যায় আসে না, যদি পাকিস্তানের মধ্যে লুকিয়ে থাকে, তাহলে সেখানে গিয়েও মেরে আসার হুঁশিয়ারি দেন বিদেশমন্ত্রী। বলে রাখা প্রয়োজন, আগেও সন্ত্রাদবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত। এমন কী ভবিষ্যতে দেশের মাটিতে কোনও জঙ্গি হামলা হলে তা যুদ্ধ হিসাবেই দেখা হবে বলেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
