৬২৯তম জগন্নাথের স্নানযাত্রার দিন রুপোর ছাতা ও রাজদণ্ড আসে শেওড়াফুলি রাজপরিবার থেকে । কুল পুরোহিত ও পরিবারের সদস্যরা সেই বিশাল ছাতা নিয়ে আসেন । তারপরেই শুরু হয় জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা।
শেওড়াফুলি রাজ পরিবার থেকে রুপোর ছাতা আসার পরই শুরু হয় জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা । প্রায় ৬০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই প্রথা ৷ তৎকালীন সময়ে জগন্নাথের সেবার জন্য জগন্নাথপুর মৌজা দান করেন শেওড়াফুলির রাজা মনোহর রায় । সেবার ছত্রধরের ভূমিকা পালন করেছিলেন শেওড়াফুলির রাজারা । জগন্নাথ মহাপ্রভুর প্রতি সেবা ও শ্রদ্ধা জানাতে এই রাজকীয় সেবার আয়োজন । স্নানযাত্রার সময় মাহেশের জগন্নাথ দেবের মাথায় রুপোর ছাতা ধরা হত । ছাতা না-ধরলে স্নানযাত্রা শুরু হত না । এই প্রথা চলে আসছে আজও ।
জগন্নাথের স্নানযাত্রার আগে শেওড়াফুলি রাজবাড়ির সদস্যদের আমন্ত্রণ জানান সেবাইতরা । সেইমতো স্নানযাত্রার দিন শেওড়াফুলি রাজবাড়ি থেকে সুবিশাল রুপোর ছাতা ও রাজদণ্ড আসে । রাজবাড়ির পুরোহিত ও পরিবারের সদস্যের উপস্থিতিতে স্নানযাত্রা সম্পন্ন হয় ৷ সেই সময় থেকে জগন্নাথের স্নানযাত্রায় রাজদণ্ডটি ব্যবহার করা হয় ৷
ষোড়শ শতাব্দীতে রাজা মনোহর রায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি করে দিয়েছিলেন ৷ কালের স্রোতে তা নষ্ট হয়ে গেলেও নতুন জগন্নাথ মন্দিরের জায়গা অর্থাৎ পুরো জগন্নাথপুর মৌজাকে দেবসেবার জন্য দান করে যান রাজা ৷ সেই সময় থেকে স্নানযাত্রার সময় ছত্রধারীর অনুমতি পান ৷
সেই আমলে রাজা তাঁর পাইক-বরকন্দাজ ও অনুগামীদের নিয়ে মাহেশ জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায় অংশ নিতেন । তাঁর সঙ্গে থাকতেন ৪০ জন ঢাল-তরোয়ালধারী অশ্বারোহী সৈন্য ৷ বাজনা সহযোগে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার মাথায় ছাতা ধরার পরই স্নানযাত্রা শুরু হত ৷
১৮৩০ সালে রাজা হরিশচন্দ্র রায়ের আমলে স্নানযাত্রায় একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে ৷ ওই বছর শ্রীরামপুরের এক ব্যবসায়ী পরিবার সেবাইতদের সঙ্গে যুক্তি-পরামর্শ করে অর্থবলে ছাতা ধরেন ৷ রাজা ওই ঘটনায় দুই পুরোহিতকে রাজবাড়িতে আটক করে রেখে দেন । পরে তাঁদের চুক্তিসাপেক্ষে মুক্তি দেন । তারপর থেকে এর কোনো অন্যথা হয়নি । আজও পরিবারের পুরোহিতরা এই রুপোর ছাতা ও রাজদণ্ডটি নিয়ে যান । তাঁরাই জগন্নাথদেবকে দুধ ও গঙ্গাজলের স্নানের সময় ছাতা ধরে থাকেন ৷ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পাশে উপস্থিত ছিলেন।
