মদ বিতরণ করতে গিয়ে ধরা পড়লেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ধরা হয়ত পড়তেন না, কিন্তু পঞ্জিকাতে সে দিন একাদশী, নির্জলা। আর কোথায় যাবে! বিজেপি শাসিত রাজস্থানে হাজতবাস করতে হল সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সচিন সেনকে। ‘লাপ্পু সচিন’ নামেও পরিচিত। গত ১২ জুন, বৃহস্পতিবার জয়পুর পুলিশ তাঁকে এবং ছয় সহযোগীকে আটক করে।
মদ বিতরণের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর হিন্দু সংগঠনগুলির কড়া প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে প্রশাসন। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা যায়, একটি স্করপিও গাড়ি থেকে কয়েক জন যুবক পথচলতি মানুষের মধ্যে মদ বিলি করছে। সেই ভিডিয়ো পোস্ট করে এক ব্যক্তি পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জয়পুর দক্ষিণ জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার দিগন্ত আনন্দ জানান, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভিত্তিতে গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করে অভিযুক্তদের খোঁজ পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছয় সহযোগীর নাম হল প্রদীপ কদওয়াসরা, বিকাশ ভার্মা, অভিষেক নির্মল, সুনীল কুমার, আদিত্য মাহারিয়া এবং অঙ্কিত। তদন্তে ধৃতরা স্বীকার করেছে, তারা শুধুমাত্র ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য এই কাজ করেছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে ঘা দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল না। এই ঘটনা নির্জলা একাদশীর মতো এক বিশেষ ধর্মীয় দিনে হওয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বলে মনে করছে পুলিশ। কংগ্রেসের স্থানীয় এক নেতার দাবি, অন্য দিন হলে পুলিশ কিছুই বলত না। তাঁর অভিযোগ, এ ভাবেই ধর্মকে অস্ত্র করতে চায় বিজেপি পরিচালিত সরকার। মদ বিলি করা যে কোনও দিনই অপরাধ। ঘটনাচক্রে সে দিন একাদশী হলে তাতে নতুন কিছু যুক্ত হয় না। “আসলে পুলিশ টাকা নিয়ে এসবে প্রশ্রয় দেয় বলেই চলে।” বলেন তিনি।
গণক্ষোভের মুখে অভিযুক্তেরা কান ধরে ক্ষমা চেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই কোটি কোটি মানুষ দেখে ফেলেছেন। সমাজের বহু মানুষ এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকে প্রশ্নের সুরে জানতে চাইছেন, গ্রেফতারিটা মদ বিলির জন্য, নাকি ওই দিন একাদশী পড়েছে বলে?
