ভিড়ে ঠাসা লোকাল ট্রেন। গলদঘর্ম যাত্রীরা। শহরতলির লোকাল ট্রেনে এ চিত্র কার্যত রোজকারই। বিশেষ করে অফিস টাইমে গরমে ঘেমে নেয়ে বাদুড়ঝোলা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হয় যাত্রীদের। সে সব থেকে এবার খানিকটা স্বস্তি। শিয়ালদহ ডিভিশনে চালু হতে চলেছে এসি লোকাল। রানাঘাট কারশেডে এসে পৌঁছল পূর্ব রেলের এসি লোকাল। মুম্বইতে আগেই চালু হয়েছিল। আর এবার কলকাতাতেও চাকা গড়াবে এসি লোকালের।
পূর্ব রেল সূত্রে খবর, শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর মেন লাইনে চালানো হবে এসি লোকাল ট্রেন। রেল বোর্ডের অনুমোদন মিললেই চালু হবে। রানাঘাট লোকসভার বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার আগেই এই এসি ট্রেন চলাচলের বার্তা দিয়েছিলেন সামাজিক মাধ্যমে।
শিয়ালদহ থেকে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার গঙ্গাপাড়ের শহরগুলি তো বটেই, এসি লোকালে উপকৃত হবেন রাণাঘাট ও কৃষ্ণনগরবাসীও।
এসি লোকাল ট্রেন ঘিরে লাভের আশা দেখছে পূর্ব রেল। প্রথমত, শিয়ালদহ মেন লাইনে অগণিত যাত্রী নিত্যদিন কলকাতায় আসা যাওয়া করেন। কল্যাণীতে রয়েছে এইমস, বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু অফিসযাত্রী নয়, সুবিধা হবে রোগী থেকে ছাত্র-ছাত্রীদেরও।
গ্রীষ্মকালে এসি লোকাল ট্রেনের চাহিদা তুঙ্গে থাকবে বলেই আশা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ইতিমধ্যেই রানাঘাটে এসি লোকাল ট্রেন দেখতে পেয়ে খুশি এলাকার মানুষজন। তাঁদের দাবি, গ্রীষ্মকালে লোকাল ট্রেনে ভিড়ে যাতায়াত করতে গলদঘর্ম অবস্থা হয়ে যায়। এসি ট্রেনটি চালু হলে আরামে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
ভাড়া নিয়ে যদিও মাথাব্যথা নেই যাত্রীদের সিংহভাগেরই।
পূর্ব রেল সূত্রে খবর, সাধারণ লোকাল ট্রেনের টিকিটে এসি লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করা যাবে না। থাকবে বিশেষ চেকিংয়ের ব্যবস্থা। ১০ কিমি পর্যন্ত দূরত্বে অর্থাৎ শিয়ালদহ থেকে দমদম ভাড়া হবে ২৯ টাকা। ব্যারাকপুর পর্যন্ত ৬৫ টাকা। নৈহাটি যেতে খরচ ৮৫ টাকা। রাণাঘাট পর্যন্ত ভাড়া ১১৩ টাকা। কৃষ্ণনগর যেতে খরচ পড়বে ১৩২ টাকা। বাকি ট্রেনগুলির মতোই এই ট্রেনটি ১২ কোচের হবে। প্রায় ১১০০ যাত্রীর আসন থাকবে। এছাড়া দাঁড়িয়েও এই ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা।
