সোশ্যাল মিডিয়ায় ৩৭ বছরের হেনরিকসের সঙ্গে বন্ধুত্ব নদিয়ার এক কিশোরীর। ক্রমশ বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়। এমন একটি পর্যায়ে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন নেদারল্যান্ডসের বাসিন্দা হেনরিকস। যেমন কথা, তেমন কাজ। আমস্টারডাম থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যান নদিয়ার মায়াপুরে। কিন্তু বন্ধুর বাড়ির ঠিকানা জানা ছিল না হেনরিকসের। শেষে থানা-পুলিশ।
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হেনরিকসের সঙ্গে এক বাঙালি কিশোরীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়। বন্ধুত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, হেনরিকস সিদ্ধান্ত নেন তাঁকে দেখতে আসবেন। গত রবিবার আমস্টারডাম থেকে বিমানে কলকাতায় এসে পৌঁছান। তার পর সড়কপথে মায়াপুর। সেখান থেকে তেহট্টে। কিন্তু বন্ধুর বাড়ির ঠিকানা জানা ছিল না। এলাকায় ঘুরে বেড়াতে থাকেন হেনরিকস। এর পর একটি স্কুলের সামনে প্রায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন, বন্ধুর অপেক্ষায়। একজন ‘সাহেব’ উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরছেন— তা দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। খবর যায় থানায়। তেহট্ট থানা থেকে পুলিশ এসে তুলে নিয়ে যায় হেনরিকসকে। ওসি অভিজিৎ বিশ্বাস জানান, হেনরিকস তাঁর বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখান। সেই সঙ্গে তিনি কিশোরীর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলও দেখান পুলিশকে। পুলিশ তদন্ত করে সন্দেহজনক কিছু না পেলেও কিশোরীর বাবা পুলিশের কাছে আবেদন করেন, যাতে তাঁর মেয়ের সঙ্গে ওই বিদেশির দেখা না হয়। যেহেতু মেয়েটি নাবালিকা, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আমস্টারডামের হেনরিকস তেহট্টের বন্ধুর দেখা পাননি।
হেনরিকস সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি অপমানিত ও অসম্মানিত বোধ করেছেন। ভারতে এই অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। তাঁর কথায়, “আমি কারও মনোযোগ বা খ্যাতি চাইনি। শুধু আমার বন্ধুকে দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু এখন সব কিছুই শেষ। আমি কালই ভারত ছেড়ে যাচ্ছি এবং আর কখনও এখানে ফিরব না। হেনরিকস আরও বলেন, “তেহট্টর মানুষ খুবই নির্মম। তারা মুহূর্তের মধ্যে একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে। বিদেশিদের সঙ্গে যদি এমন ব্যবহার করা হয়, তাহলে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি সন্দিহান।”
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
