সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
‘ রথযাত্রা লোকারণ্য মহা ধুমধাম ‘….
কয়েক’শ বছর ধরে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা নিয়ে এমনই ট্র্যাডিশন দেখেছে নীলাচল পুরী, বৃন্দাবন অথবা শ্রীরামপুরের মাহেশ। এবার থেকে সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলার সৈকত সুন্দরী দিঘা। সরকারি উদ্যোগে তৈরি জগন্নাথ মন্দির উপলক্ষ্যে এবারই প্রথম দিঘায় রথযাত্রা উৎসবের সূচনা করবে রাজ্য সরকার। সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা ঝাড় দিয়ে এবং রথের রাশিতে টান দিয়ে ভক্ত ভগবানের মেলবন্ধনের এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ঠিক দুপুর আড়াইটায় রথযাত্রার সূচনা হবে। বিকেল চারটে নাগাদ রথযাত্রার অনুষ্ঠান সাঙ্গ হবে। বস্তুত সকাল ন’টা থেকেই রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুরু হবে দিঘার জগন্নাথ মন্দির চত্বরে। সকাল সাড়ে নটার পর থেকে মানুষ রথ দর্শন করতে পারবেন। দুপুর দুটো নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শুরু হবে রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ আরতি। তারপর রথযাত্রার সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুরীর মত দিঘাতেও জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার জন্য তিনটি আলাদা রথ থাকছে। প্রথমেই থাকবেন জগন্নাথ দেবের রথ ‘নন্দীঘোষ’, যার উচ্চতা ৩০ ফুট। ১৬ চাকার এই রথে তিন দিকে থাকবে ৯ জন পার্শ্বদেবতা এবং দুজন দ্বাররক্ষক। জগন্নাথের রথ গরুধ্বজ এবং কপিধ্বজ নামেও পরিচিত। জগন্নাথের রথে একটি হলুদ এবং লাল শামিয়ানা থাকবে এবং এটি রথগুলির মধ্যেও বৃহত্তম। জগন্নাথের রথের চারটি ঘোড়ার নাম শঙ্খ, বলহাকা, শ্বেতা ও হরিদশ্ব।
সুভদ্রার রথ ‘দেবদলন’ বা ‘পদ্মধ্বজ’ এর উচ্চতা সাড়ে ২৮ ফুট। এই রথের রং সাধারণত লাল এবং কালো হয় এবং ১২টি চাকা থাকে।
বলরামের রথ ‘তালধ্বজ’-এর উচ্চতা সাড়ে ২৯ ফুট। সবুজ ও লাল রঙের শামিয়ানায় সাজবে বলভদ্রের রথ । এই রথে ১৪টি চাকা এবং এটিতে চারটি কালো ঘোড়া যুক্ত থাকে।
রথযাত্রা উপলক্ষে বুধবার দিঘায় পৌঁছেই রথযাত্রার ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রথের রশি টানতে গিয়ে ভিড়ের চাপে যাতে কোনরকম দুর্ঘটনা না হয় তা নিয়ে বৈঠকে বিশেষ ভাবে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত উত্তরপ্রদেশের মহাকুম্ভের দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে এবং গতবার পুরীর রথযাত্রায় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে দিঘার রথযাত্রার রাস্তায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, রথ যে পথে যাবে সেই রাস্তার দু’ধারে ব্যারিকেড করা থাকবে সাধারণ মানুষ রাস্তায় থাকবেন না। ব্যারিকেডের মধ্যে থাকবেন। রথ যেতে যেতে মাঝেমধ্যেই থামবে, ফলে রথের রশি স্পর্শ করা বা রশিতে টান দিতে ভক্তদের কোনও অসুবিধা হবে না বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে দেবদর্শনেও কোনও অসুবিধা হবে না। রাজ্যে এই প্রথমবার শ্রীক্ষেত্রের আদলে রথযাত্রা উৎসব পালিত হবে। তাই এই উৎসবকে নির্বিঘ্নে এবং সার্থকভাবে উদযাপন করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
