হ্যাঁ, তাই। এই ধরনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা তথা কলকাতা পুরনিগমের বিরোধী কাউন্সিলার সজল ঘোষ। সম্প্রতি এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন কলকাতা পুরনিগমের এই কাউন্সিলর৷
সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “আপনি হয়তো ভাবছেন অটো চড়ছেন ৷ কিন্তু গাড়ির নম্বর অনুযায়ী দেখতে গেলে দেখা যাবে আপনি বাসে, ছোট হাতি বা এই জাতীয় কোনও গুডস ভেহিকেলে চড়ে যাচ্ছেন ৷’’
এই অভিযোগের পাশাপাশি সঙ্গে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন ৷ সেখানে কিছু অটোর ছবি রয়েছে ৷ সেই ছবিগুলিতে অটোর নম্বর প্লেট স্পষ্ট করে দেখানো হয়েছে ৷ সঙ্গে ওই নম্বরের রেজিস্ট্রেশন আসলে কোন ধরনের গাড়ির, সেই সংক্রান্ত পরিবহন দফতরের ডিজিটাল নথির ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি ৷ সেই কারণেই সজল নিজের পোস্টের সঙ্গে লিখেছেন, ‘‘গাড়ির নম্বরগুলোর সঙ্গে মোটর ভেহিকেলস-এর ডিটেলস মিলিয়ে দেখুন ৷’’
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে কলকাতার কোথায় এই ধরনের অটো চলে? সেই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন সজল৷ তাঁর দাবি, এই সমস্ত অটো চলে বরানগর বিধানসভার অন্তর্গত সিঁথির মোড় থেকে কামারহাটি পর্যন্ত৷ এই ধরনের বেআইনি কাজের জন্য সজল সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘এই সমস্ত অটোর নিয়ন্ত্রক ওই অঞ্চলের তৃণমূলের কিছু সমাজবিরোধী৷ আর এই গরিব অটোচালকদের থেকে তাঁরা লাখ লাখ টাকা তোলা আদায় করেন৷’’
একইসঙ্গে তাঁর দাবি, তদন্ত হলে রাজ্যের অন্যত্রও এই ধরনের উদাহরণ পাওয়া যাবে৷
উল্লেখ্য, অভিযোগ সত্যি হলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্ঘটনাগ্রস্থ ব্যাক্তি ইন্সিওরেন্স ক্লেম করতে পারবেন না বা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
বিষয়টি রাজ্য পুলিশের খতিয়ে দেখা উচিত বলেও মনে করেন বিজেপি নেতা৷
সজলের কথায় ‘‘এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাটা কোথায় চলে গিয়েছে৷ একজন যাত্রী তিনি রাস্তায় অটোয় চড়ছেন৷ কিন্তু সরকারি খাতায় দেখা যাচ্ছে যে তিনি বাস কিংবা লরি কিংবা ছোট হাতিতে যাচ্ছেন। যাত্রীদের জীবনের সঙ্গেও ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে৷ যদি কোনও দুর্ঘটনা হয়, সেই ক্ষেত্রে যাত্রী কোনও বিমা পাবেন না।
এই সরকারের দুর্নীতি এখন অটো-টোটোস্তরেও নেমে এসেছে।”
সজল ঘোষের আরও অভিযোগ “একটি অটোর দাম যদি তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ হয়, তাহলে বরানগরের রুটে সেই অটো নামাতে হলে প্রতি অটো পিছু স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা দিতে হয়। তবেই রুটে পরিষেবা দেওয়ার জন্য নামানো যাবে অটো। আসলে কেউ উদাসীন নয়। কেউ চোখ বুজে নেই৷ সবাই যে যার বখরাটা বুঝে নিচ্ছে।’’
সজল ঘোষের অভিযোগকে সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্যের বাস ও মিনিবাস মালিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপনারায়ণ বসু। বরানগরের বাসিন্দা প্রদীপনারায়ণ বসু’র মতে,
“এই ধরনের বেআইনি কারবার বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। বিশেষ করে ১৫ বছরের বেশি বয়সি বাস, মিনিবাস বা ট্রাক গুলির রেজিস্ট্রেশন নম্বরকে এই ধরনের বেআইনি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু বরানগর-কামারহাটি রুটেই নয়, উত্তর কলকাতার বিভিন্ন অটো রুটে এই ধরনের বেআইনি গাড়ির খোঁজ মিলবে। এ ব্যাপারে কলকাতা পুলিশের ডিসি নর্থের সঙ্গে আমরা আলোচনা চেয়েছি। কিন্তু আলোচনা করতে না চাইলে বলব কাকে? কলকাতা পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়েছে। কিন্তু সুফল কিছু মেলেনি। অটোগুলোর এই বেআইনি কারবারে আখেরে বাস পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
বাস ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরে অটো? ঘটনার সত্যতা জানতে ও প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে। কিন্তু তিনি এব্যপারে কিছু না জেনে কোনও কথা বলতে নারাজ। যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন দফতরের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন যে তিনি এই বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত নয় । তবে এই খবরটি তিনি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পরিবহণ দফতরের আরটিও এবং আধিকারিকদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
